Breaking News

বেসরকারিকরণ ঠেকাতে মরিয়া চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার শ্রমিকেরা

পারিজাত সেনগুপ্ত

খবরটা কিন্তু অনেকেরই চোখে পড়েছে। ভারতের সর্বাধুনিক ট্রেন তেজসের জন্য সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে ৬০০০ হর্সপাওয়ারের ইঞ্জিন তৈরি করল চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার শ্রমিকেরা।

অবশ্য এই ধরণের কৃতিত্ব নতুন নয়।১৯৫০ সালে ভারতীয় রেলের ইঞ্জিনের চাহিদা মেটাতে এই কারখানা টি প্রতিষ্ঠিত হয়।কারখানা যাতে চিত্তরঞ্জনেই হয় তার জন্য উদ্যোগ নেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিধান চন্দ্র রায়।

গত তিরিশ বছরের ইতিহাসে চিত্তরঞ্জন কারখানা তার উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা পূরণ করতে পারে নি,এমন ঘটনা কখনো ঘটে নি।কিন্তু কারখানায় আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কোন উৎসাহ নেই রেলবোর্ডের।বরং বিহারের মাধেপুরায় ফরাসি বহুজাতিক সংস্থা অ্যালস্টম যে কারখানা তৈরি করেছে সেখানে ৮০০ টি১২০০০ হর্সপাওয়ারের ইঞ্জিন তৈরির বরাত দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ যে ইঞ্জিন চিত্তরঞ্জনে ১০ কোটি টাকা দিয়ে তৈরি হচ্ছে তা বেসরকারি কোম্পানি থেকে কেনা হচ্ছে ২৬ কোটি টাকা দরে।

Workers of Chittaranjan Railway Engine Factory desperate to prevent privatization

 

শ্রমিকরা আজ আন্দোলনের পথে কারণ ভারত সরকার আজ এই কারখানার বেসরকারিকরণের লক্ষে এক রোড ম্যাপ প্রস্তুত করে ফেলেছে। কাহিনির শুরু দ্বিতীয় দফায় এন ডি এ সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযুষ গোয়েলের ঘোষণা যেখানে বলা হয় রেলের সাতটি প্রোডাকশন ইউনিটকে ভারতীয় রেলের নিয়ন্ত্রণ থেকে বার করে এনে ” ইন্ডিয়ান রেলওয়ে রোলিং স্টক কোম্পানি ” তৈরি হবে।এই সাতটি ইউনিট হল— চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ ওয়ার্কস ( পশ্চিমবঙ্গ),ইন্ট্রিগাল কোচ ফ্যাক্টরি( তামিলনাড়ু), রেল কোচ ফ্যাক্টরি ( কাপুরথালা,পাঞ্জাব),ডিজেল মর্ডানাইজেশন ওয়ার্কাস ( পাতিয়ালা,পাঞ্জাব),ডিজেল লোকোমোটিভ ওয়ার্কস ( বারানসী,উত্তরপ্রদেশ), হুইল অ্যাক্সেল প্ল্যান্ট( ব্যাঙ্গালোর,কর্ণাটক), মর্ডান কোচ ফ্যাক্টরি ( রায়বেরিলি,উত্তর প্রদেশ)।প্রত্যেক ইউনিটে একজন করে ‘ চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ‘ থাকবেন যিনি সরাসরি নতুন কোম্পানির পরিচালন পর্ষদে রিপোর্ট করবেন।সরকার পক্ষের বক্তব্য হল এর ফলে উন্নত প্রযুক্তি আমদানি করা যাবে,উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং ইউনিটগুলিতে বিশ্বমানের কোচ ও ইঞ্জিন তৈরি করা যাবে।আর শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য ইন্ডিয়ান রোলিং স্টক কোম্পানি তৈরির সিদ্ধান্ত থেকে এটা পরিষ্কার যে, ধাপে ধাপে নতুন কোম্পানিকে বিলগ্নিকরণের মাধ্যমে বেসরকারি কর্পোরেট সংস্থা গুলোর অনুপ্রবেশের পথ প্রস্তুত করা হবে।গত একবছরে রেল বোর্ডের একাধিক ঘোষণা যেমন বেসরকারি ট্রেন চালু, প্ল্যাটফর্মকে প্রাইভেট অপারেটরদের হাতে দেওয়া,যাত্রী সুবিধা সংকোচন থেকে এটা পরিষ্কার যে চিত্তরঞ্জন সহ প্রোডাকশন ইউনিটগুলিকে কর্পোরেট সংস্থায় পরিণত করা আসলে রেল বেসরকারিকরণের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।

Workers of Chittaranjan Railway Engine Factory desperate to prevent privatization

 

আর এই জায়গা থেকেই পাল্টা আন্দোলনের পথে শ্রমিকরা।চিত্তরঞ্জনে সবকটি শ্রমিক সংগঠন জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি গঠন করে আন্দোলন শুরু করেছেন।

এখনো পর্যন্ত বিভিন্ন শপে যেমন বিক্ষোভ হয়েছে, তেমনি কেন্দ্রীয় ভাবে জি এম এর অফিস ঘেরাও এর কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। গত বছর চিত্তরঞ্জন থেকে কলকাতা পদযাত্রা সারা রাজ্যের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।এই করোনাকালে আন্দোলন কিন্তু থেমে নেই।

Workers of Chittaranjan Railway Engine Factory desperate to prevent privatization

 

প্রবীণ শ্রমিক নেতা স্বপন লাহা জানালেন ৪ঠা আগস্ট ও ২রা অক্টোবর কয়েক হাজার মানুষের অংশগ্রহণে দুটি বিশাল পদযাত্রা রেল শহর পরিক্রমা করে যার প্রধান দাবি ছিল কর্পোরেটকরণ ও বেসরকারিকরণ বন্ধ এবং শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী লেবার কোড প্রত্যাহার।

এখনো পর্যন্ত শ্রমিকদের বিরোধিতার কারণে রেল বোর্ডের কোন উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল সমীক্ষার কাজে কারখানায় আসে নি।আগামী দিনগুলোতে চিত্তরঞ্জনে শ্রমিকদের আন্দোলন যে আরো বাড়বে তা শ্রমিক নেতাদের কথায় স্পষ্ট।

Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

দুর্নীতির অভিযোগ , উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ

Read Next

ছেলেকে আত্মবিশ্বাস ও মাথা ঠান্ডা রাখতে বলি সব সময়, বলছেন ঈশানের বাবা

Leave a comment

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.