Breaking News

সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার ও শাসক দলের দ্বিচারিতা

The use of social media and the duplicity of the ruling party

ইস্টার্ন টাইমস , নয়াদিল্লি : একদিকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সুযোগ চাই , অন্যদিকে নেটনাগরিকদের সমালোচনা করার অধিকার কেড়ে নেওয়া , এই দুই পরস্পরবিরোধী আচরণ শাসকদলের পদক্ষেপে।

ভারতের সংসদীয় কমিটি যখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের টুইটার অ্যাকাউন্ট সাময়িক ব্লক করে দেওয়ার জন্য টুইটার কর্তৃপক্ষকে প্রশ্নবানে জর্জরিত করছেন, তখনই বিজেপি শরিক বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে আপত্তিজনক বা মানহানিকর পোস্ট করলে তা শাস্তিযোগ্য সাইবার অপরাধ বলে গণ্য করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর শুধুমাত্র সরকারের বিরুদ্ধেই নয়, সরকারি আধিকারিক বা কোনও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওই ধরনের পোস্ট করলেও শাস্তির মুখে পড়তে হবে নেটাগরিকদের।

২০২০ সালের নভেম্বর মাসে আচমকাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেয় টুইটার। সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁর মূল ছবিটিও।

পরে যদিও অ্যাকাউন্ট ফের চালু করে দেওয়া হয়। কিন্তু তা নিয়ে বিতর্ক পিছু ছাড়েনি টুইটার কর্তৃপক্ষের। বৃহস্পতিবার এ নিয়ে সংসদীয় কমিটির সামনে জেরবার হতে হয় সংস্থার আধিকারিকদের।

সংসদীয় কমিটির সামনে ডেকে পাঠানো হয় দুই সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট, টুইটার এবং ফেসবুকের আধিকারিকদের। যাবতীয় নীতি–নিয়ম স্পষ্টভাবে জানাতে বলা হয়।

সেখানেই শাহের অ্যাকাউন্টের প্রসঙ্গ উঠে আসে বলে জানা গিয়েছে।সূত্রের খবর, শাসক দল বিজেপি থেকে যাঁরা সংসদীয় কমিটিতে রয়েছেন, মূলত তাঁদেরই আক্রমণের মুখে পড়েন টুইটার আধিকারিকরা।

জবাবে টুইটার আধিকারিকরা জানান, শাহের অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়ার বিষয়টি একেবারেই ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ ছিল। তবে সেই সময় ‘ডিসপ্লে পিকচার’ অর্থাৎ প্রোফাইলের মূল ছবিটি নিয়ে কপিরাইট সংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়ে। তাই ছবিটিও সরিয়ে দেওয়া হয়। টুইটারের সত্যাসত্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সংসদীয় কমিটির সদস্যরা।

জবাবে সংস্থার আধিকারিকরা জানান, ভার্চুয়াল দুনিয়াতেও সকলের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতে চাইছেন তাঁরা। কিন্তু তাঁদের এই জবাবে সন্তুষ্ট হতে পারেননি সংসদীয় কমিটির সদস্যরা।এ নিয়ে পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

অন্যদিকে , বৃহস্পতিবার থেকে ফেসবুক বা টুইটারের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের সমালোচকদের-দের কড়া শাস্তি হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নীতীশ।

এ বিষয়ে বিহারের ইকোনমিক অফেন্সেস উইং-এর আইজি নায়ার হাসনেন খানকে নির্দেশ দিয়েছেন যে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে আপত্তিজনক বা মানহানিকর কোনও পোস্ট করলে তা যেন রিপোর্ট করা হয়। পাশাপাশি, তাঁদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।নীতীশের নির্দেশ মেনে আইজি নায়ার হাসনেন রাজ্যের সব সচিবকে একটি চিঠি দিয়েছেন।

ওই চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘সরকার, সম্মাননীয় মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক এবং সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিজনক বা মানহানিকর মন্তব্য করছেন কয়েক জন ব্যক্তি এবং কিছু সংস্থা। এই সব পোস্ট আইনবিরোধী এবং সাইবার অপরাধ বলে গণ্য হবে’।

প্ররোচনামূলক পোস্ট রুখতে সম্প্রতি একাধিক পদক্ষেপ করেছে টুইটার।

যে কারণে আমেরিকায় ক্যাপিটল হামলায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অ্যাকাউন্টও সাময়িক ব্লক করে দেয় তারা। তাদের এই ‘সাহসী’ পদক্ষেপ একদিকে যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছিল, তেমনই ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের অ্যাকাউন্ট ব্লক করা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল তাদের।

নাগরিকদের নিরাপত্তা, সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার এবং ভার্চুয়াল দুনিয়ায় মহিলাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা সেই সময় জানায় টুইটার।

Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হল বিধায়িকা বৈশালী ডালমিয়াকে

Read Next

বিক্ষোভের ৫৯ তম দিনে সরকারের সঙ্গে কৃষকদের ১১তম বৈঠকেও মিললো না সমাধান সূত্র

Leave a comment

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.