Breaking News

বাংলাদেশের ডলুবাড়ির ত্রিপুরীরা জমি হারানোর আতংকে দিশাহারা

The Tripuris of Dolubari in Bangladesh are lost in fear of losing their land
বিনীতা দত্ত 

বাংলাদেশের মৌলভীবাজার রেঞ্জের লাউয়াছড়া বনের ত্রিপুরী নাম- মৈলপতুইসা। মৈলপ মানে লাউ।তুইসা মানে পাহাড়ি ঝোরা। এখানের বনাঞ্চলে নাকি সাতটি ঝোরা বা ছোটো ঝরনা আছে। এখানকার একটি পুরানো গ্রামের নাম ডলুবাড়ি। সম্প্রতি এক নোটিশের ফলে এখানকার জনগনের মধ্যে আতংক আর হতাশার অন্ধকার নেমে এসেছে।

জমি হারানোর ভয়ে এখন তারা দিশেহারা। এখানে বাঙালিদেরও দুটি গ্রাম আছে। পাকিস্তান সরকার ১৯৬৮ সালে ডলুবাড়ির ৩৮৩.১৪ একর জায়গা জেরীন চা-বাগানের জন্য লীজ দেয়। নথিপত্রে দেখা যাচ্ছে, ১৯৬৮ সালে সেখানে ৪২টি ত্রিপুরী ও ৪টি খাসিয়া পরিবার বাস করতেন। সরকারি নথিতে তা খাস জমি হিসাবে দেখানো হয়েছিল।

এর ফলে বিবাদ শুরু হয় যা শেষ পর্যন্ত গড়ায় হাইকোর্টে। হাইকোর্টে ত্রিপুরীদেরই জয় হয়। ১৯৭৮ সালে হাইকোর্ট একে ত্রিপুরীদের নিজস্ব জমি বলেই রায় দেয়।

১৯৯৬ সালে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান হিসাবে সরকারী স্বীকৃতি পায়। ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন মার্কিন কোম্পানি অক্সিডেন্টাল এক বিধ্বংসী বিস্ফোরণ ঘটায়। যার ফলে লাউয়াছড়া বন ও সেখানকার মানুষের জীবনযাত্রা প্রচন্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার পর আসে মার্কিন কোম্পানি ইউনিকল।

তারা বনাঞ্চল নষ্ট করে এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে গ্যাস পাইপলাইন বসায়। আবার আরেক মার্কিন কোম্পানি শেভরন এই বনাঞ্চলে জরিপের নামে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বন এবং বন্যপ্রাণীর প্রচুর ক্ষতি করে। পরবর্তী সময় লাউয়াছড়ায় গড়ে ওঠে কিছু বাণিজ্যিক পর্যটন কেন্দ্র ও রিসর্ট।

এসবের ফলে লাউয়াছড়ার আদি ত্রিপুরীদের জীবন ক্রমশঃই সংকুচিত ও বিপন্ন হয়ে উঠতে থাকে। তাদের চাষের জমি ক্ষতি হয় ও বনের খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙ্গে যেতে থাকে। যার কুপ্রভাব পড়ে ত্রিপুরীদের অর্থনৈতিক জীবনে।

 The Tripuris of Dolubari in Bangladesh are lost in fear of losing their land

এখন তারা আবার এক নতুন সমস্যার মুখোমুখি। সংবাদে প্রকাশ, সরকার নাকি ‘আশ্রয়ণ’ প্রকল্পের অধীনে এই ত্রিপুরী গ্রামের কিছু কৃষিজমি ১৫০ গৃহহীন ভূমিহীন পরিবারের জন্য বরাদ্দ করতে চলেছেন। তাই ডলুবাড়ি এলাকার মানুষেরা আতংকে ভুগছেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ডলুবাড়িতে ১২০টি ত্রিপুরী পরিবার বাস করে, আরও ১৫০টি পরিবার এলে এখানকার পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হতে পারে।

তাঁরা দীর্ঘকাল ধরে এই জমিগুলোতে চাষ করে আসছেন।

এখন জুমচাষ না হলেও বিভিন্ন ফল ও শষ্যের চাষ করেন তাঁরা। তাঁরা আশংকা করছেন, এইভাবে হয়তো আরো অনেক জমি তাঁদের থেকে নিয়ে নেওয়া হবে, তখন তাঁরা কীভাবে চাষ করবেন, জীবনই বা চলবে কী করে। অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্নে ডলুবাড়ির ত্রিপুরীরা তাই দিশাহারা।

গৃহহীন-ভূমিহীনদের জন্য ‘আশ্রয়ণ’ প্রকল্পটি অবশ্যই প্রশংসার দাবী রাখে। কিন্তু একজনের কৃষিজমি নিয়ে অন্যকে দেওয়া এক জটিল সমস্যা সৃষ্টি করছে। বসতি করার জন্য তাঁদের ফাঁকা কোনো সরকারী জায়গায় ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তা হলে অনেক অপ্রীতিকর পরিস্থিতি হয়তো এড়ানো সম্ভব হবে।

খবরে প্রকাশ, গম্বর শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ত্রিপুরী জনগন ডলুবাড়ির ভূমি রক্ষার দাবিতে স্মারক লিপি পেশ করেছেত ৩রা নভেন।

গত ৮ নভেম্বর লাউয়াছড়া বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা আন্দোলন সরকারী সিদ্ধান্ত বদলের দাবীতে শ্রীমঙ্গলে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে।

খবরে প্রকাশ, শ্রীমঙ্গল উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানিয়েছেন, “আমরা আন্দোলনকারীদের কাছ থেকে একটি স্মারকলিপি পেয়েছি, এখন আমরা সেটি পর্যালোচনা ও আলাপ-আলোচনা করে দেখবো।”

সরকার যদি তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ‘আশ্রয়ণ’ প্রকল্পটি অন্য কোথাও রূপায়ন করতে সমর্থ হয়, তাহলে ডলুবাড়ির ত্রিপুরীরা তাদের জীবন-জীবিকা ও পরিবেশকে যথার্থভাবে রক্ষা করতে পারবে। ডলুবাড়ির জনগন এখন সেই আশাতেই দিন গুনছেন।

Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

কেমন যাবে আপনার আজকের দিনটি : দৈনিক রাশিফল

Read Next

বাংলার ভোটযুদ্ধে জয় নিশ্চিত করতে বিজেপির ১১ জনের কোর টিম

Leave a comment

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.