Breaking News

কৃষক আন্দোলন ভেস্তে দিতে মরিয়া নরেন্দ্র মোদী সরকার

The Narendra Modi government is desperate to destroy the farmers movement

ইস্টার্ন টাইমস , নয়াদিল্লি : কৃষক আন্দোলন ভেস্তে দিতে মরিয়া নরেন্দ্র মোদী সরকার এবার সরাসরি কৃষক নেতাদের লক্ষ্য করে নিয়েছে। পাসপোর্ট জব্দ করা থেকে আরম্ভ করে লুক আউট নোটিস– কৃষক আন্দোলনকে কোনঠাসা করতে কোনো কসুর ছাড়ছে না মোদী সরকারের পুলিস বাহিনী। পুলিসের পাশাপাশি সীমান্তে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে ‘রাষ্ট্রবাদী’ সিভিল বাহিনীকেও।

গণতন্ত্র দিবসে লালকেল্লায় জাতীয় পতাকার ‘অবমাননা’র বিরুদ্ধে এদিন সিন্ধু সীমান্তে প্রতিবাদী কৃষকদের সঙ্গে বচসায় লিপ্ত হয় মোদীর সিভিল বাহিনী। পেছনে পুলিস বাহিনীর মদত।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই গাজিপুর আর সিন্ধু সীমান্তে টানটান উত্তেজনা। কৃষক আন্দোলনকে বানচাল করতে চলছে নানান ফন্দি ফকির। গাজিপুর, সিন্ধু সীমান্তমুখী দিল্লীর সমস্ত পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আন্দোলনরত কৃষকদের জল, বিদ্যুতের যোগান।

প্রজাতন্ত্র দিবসে কৃষকদের দ্বারা ট্র্যাক্টর মিছিল চলাকালীন অভূতপূর্ব সহিংসতার তদন্তে দিল্লিপুলিশের নজর এখন মুঘল-যুগের লাল কেল্লায় শিখ ধর্মীয় পতাকা লাগানোয় জড়িতদের সন্ধানে নিবদ্ধ ।

মঙ্গলবার ট্র্যাক্টর মিছিলের একটি ছোট অংশ লাল কেল্লা কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে একটি পতাকা ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডে লাগিয়েছিল ।

দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল বা সন্ত্রাস বিরোধী ইউনিটের বেশ কয়েকটি দল সেখানে পতাকা উত্তোলনকারীদের শনাক্ত করতে আইকনিক লাল কেল্লা কমপ্লেক্সে হিংসার ফুটেজ স্ক্যান করে হামলাকারীদের চিহ্নিত করছে।

প্রজাতন্ত্র দিবসের ট্র্যাক্টর মিছিলের নির্দিষ্ট পথ ছেড়ে অন্য পথে কিছু কৃষকের চলে যাওয়া এবং লাল কেল্লা সহ অন্য জায়গায় হিংসার জন্য মজদুর কৃষক সঘর্ষ সমিতি ,মালোয়া যুব সংগঠন এবং পাঞ্জাবি অভিনেতা দীপ সিঁধু কে দায়ী করেছে কৃষক আন্দোলনের মূল সংগঠক সংযুক্ত কৃষক মোর্চা।

দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল দীপ সিধু এবং লক্ষা সিধনা নামে দুই ব্যক্তির সন্ধান করছে। পুলিশ জানিয়েছে যে সিধুকে শিগগিরই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হবে।মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে থানায় দায়ের করা ২৫ টিও বেশি মামলায় সংযুক্ত কৃষক মোর্চার নেতাদের নামও রয়েছে। পুলিশ কৃষক নেতাদের ও এফআইআর-এ নাম করা অন্যদের বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিশ জারি করেছে।

তাদের পাসপোর্টগুলি জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ।ওই দিনের ঘটনা সম্পর্কিত এফআইআর-গুলির মধ্যে ৯টি এফআইআর দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ হিংসায় আহত পুলিশ কর্মীদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে দুটি ট্রমা সেন্টার এবং তীরথ রাম হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, যে সহিংসতার ঘটনায় ৩৯৪ জন পুলিশ আহত হয়েছে, সেই ঘটনায় ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

২০০ জনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মঙ্গলবার থেকে ৩০০-টি টুইটার অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে যে তারা “গোয়েন্দা তথ্য”র ভিত্তিতে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে।

অন্যদিকে ,আত্মগোপন করে থাকা অন্যতম অভিযুক্ত দীপ সিঁধু বুধবার রাতে ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করে বলেছেন ,”যদি আমাকে গাদ্দার (বিশ্বাসঘাতক) হিসাবে চিহ্নিত করা হয়, তবে সমস্ত কৃষক নেতাই গাদ্দার। আপনি যদি দাবি করেন যে লক্ষ লক্ষ লোক আমার দ্বারা প্ররোচিত হয়েছিল, তবে আপনি কেমন নেতা?

আপনি কি মনে করেন আরএসএস-বিজেপি সদস্য ‘নিশান সাহেবের’ পতাকা লাগিয়ে দেবেন? লাল কেল্লায় ? আপনি লক্ষাধিক কৃষককে গাদ্দার বলছেন।”

তিনি ফার্ম ইউনিয়ন নেতাদের বিরুদ্ধে “ব্যাক-ট্র্যাকিং” করারও অভিযোগ করেছেন।

তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না কেন, তা জিজ্ঞাসা করে দিল্লি পুলিশ সংযুক্ত কৃষক মোর্চার নেতা দর্শনপাল , বলবীর সিং রাজেওয়াল , যোগেন্দ্র যাদব ,রাকেশ টিকায়েত সহ অন্তত ২০ জন কৃষক নেতাকে একটি নোটিশ জারি করেছে।

ট্রাক্টর সমাবেশের পথ ও সময় সম্পর্কিত পুলিশের সাথে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবেনা তা জানতে চেয়ে ওই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।আগামী তিনদিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

কৃষক নেতা ড: দর্শনপাল বলেছেন ,আমরা তিনদিনের মধ্যেই জবাব দেবো পুলিশের নোটিশের . দিল্লি পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন , চলতি মাসের গোড়ার দিকে পুলিশ নিষিদ্ধ মার্কিন-ভিত্তিক সংস্থা, শিখ ফর জাস্টিস (এসএফজে)’র বিরুদ্ধে অবৈধ কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউএপিএ) এবং রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করেছিল ।

কৃষকদের আন্দোলনের সময়, দলটি লাল কেল্লায় পতাকা উত্তোলনের আহ্বান জানিয়েছিল।পুলিশ জানিয়েছে , শিখ ফর জাস্টিসও লাল কেল্লায় পতাকা উত্তোলনকারী ব্যক্তির জন্য পুরষ্কার ঘোষণা করেছিল।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভাড়েকর বলেছেন “লাল কেল্লায় জাতীয় পতাকা যেভাবে অপমান করা হয়েছিল ভারত তা সহ্য করবে না,” । কংগ্রেসকে কৃষকদের প্ররোচিত করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “কংগ্রেস দেশে অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়।”

Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট করবে দেশের ১৬টি বিরোধীদল

Read Next

২৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিগেডে বাম-কংগ্রেস জোটের সমাবেশ

Leave a comment

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.