Breaking News

বাংলাদেশে স্বাস্থবিধি ৮০ শতাংশ মেনে শান্তিপূর্ণ দুর্গাপুজো হয়েছে কক্সবাজার সৈকতে সবচেয়ে বড় প্রতিমা বিসর্জন

ইস্টার্ন টাইমস, বিশেষ সংবাদদাতা , ঢাকা, ২৭ অক্টোবর : ‘করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে এবারের দুর্গাপুজোয় পূজা উদযাপন পরিষদ ও সরকারের যে ৩৪ দফা নির্দেশনা দিয়েছিল; বাংলাদেশের হিন্দুরা তার ৮০ শতাংশ মেনেছে। দুর্গাপুজো হয়েছে শান্তিপূর্ণ।

করোনা বাধা-নিষেধের মধ্যেও আনন্দ- উচ্ছ্বাসেরও কমতি ছিলো না বলে মনে করেন বাংলাদেশের হিন্দু নেতারা। পাশাপাশি আগামী বছর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দুর্গাপুজোর সংখ্যা পূর্বের চেয়েও বাড়বে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

এবার বাংলাদেশে ৩০ হাজার ২২৩টি ম-পে দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হয়। গত বছর ম-পের সংখ্যা ছিল ৩১ হাজার ৩৯৮টি। গত বছরের তুলনায় এবার এক হাজার ১৭৫টি ম-পে পুজো কম হয়েছে।

এদিকে সোমবার চোখের জলে দেবী দুর্গাকে বির্সজন দিয়েছে বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মালম্বীরা। ’শান্তিজল’ গ্রহণে অনাড়ম্বরে শেষ হলো শারদীয় দুর্গাপূজা। পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের দশমীতে সোমবার মন্ডপে মন্ডপে দশমীর বিহিতপূজার মধ্য দিয়ে ঘটে সমাপ্তি। অতঃপর দেবীর বিসর্জন আর শান্তিজল গ্রহণ।

সেইসঙ্গে আসছে বছর আবারও এই মর্ত্যলোকে ফিরে আসবেন মা- এই আকুল প্রার্থনাও জানিয়েছে তারা। তবে এবার বিজয়া শোভাযাত্রা ছাড়াই সর্বত্র প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে।

এবার বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। বিসর্জনে এবার ছিল না রং ছিটানো ও আতশবাজি ফুটানোর খেলা। এছাড়া ছিল না তেমন কোনো আনুষ্ঠানিকতাও।

গত সোমবার সকাল ৯টা ৫৭ মিনিট থেকে দশমী বিহিতপূজার লগ্ন শুরু হয়। পূজা শেষে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ঢাকার বিভিন্ন মন্দির থেকে বুড়িগঙ্গা বা নিকটবর্তী কোনো জলাধারে প্রতিমা বিসর্জন দেন।

তবে করোনা মহামারির কারণে এবারে প্রতিমা বিসর্জনে কোনো শোভাযাত্রা বের করা হয়নি। করোনা সংক্রমণ এড়াতে এ বছর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানও সংক্ষিপ্ত করা হয়।

উৎসব সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরিহার করে সাত্ত্বিক পূজায় সীমাবদ্ধ রাখতে এবারের দুর্গোৎসবকে শুধু ‘দুর্গাপুজো’ হিসেবে অভিহিত করে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ। এবারের পুজোয় মন্ডপে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি সীমিত করা ও সন্ধ্যায় আরতির পরই বন্ধ করে দেওয়া হয় মন্ডপ। ছিল না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ধুনুচি নাচের প্রতিযোগিতা।

জনসমাগমের কারণে স্বাস্থ্যবিধি যাতে ভঙ্গ না হয় সেদিকে খেয়াল রেখেই প্রসাদ বিতরণ ও বিজয়া দশমীর শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়। পুজোর সময় বেশির ভাগ ভক্ত এবার অঞ্জলি নিয়েছেন ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে।

এদিকে বিজয়া দশমী উপলক্ষ্যে সোমবার ছিল সরকারি ছুটির দিন। দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। বিজয়া উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করে। এ ছাড়া জাতীয় দৈনিকগুলো এ উপলক্ষ্যে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জানান, প্রত্যাশা অনুযায়ী পূজা করতে পেরেছি। করোনা নির্দেশনা মেনেই আয়োজক ও ভক্তরা পুজো করেছেন। তবে একশো ভাগ স্বাস্থবিধি ও সামাজিক দুরত্ব মানেনি ভক্তরা। বাংলাদেশ ঘণবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ার কারণে নির্দেশনা শতভাগ মানানো সম্ভব নয়।

পূজা উদযাপন পরিষদের ঢাকা মহনগর কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল তার ৮০ শতাংশ মেনেছে মানুষ।

Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

বক্সিং ডে টেস্ট বিরাট রা খেলতে পারে দর্শক দের সামনে

Read Next

ভারতীয় দলে ঢোকা স্বপ্নের মত বলছেন বরুণ

Leave a comment

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.