Breaking News

রেল, সড়ক, এয়ারপোর্ট, বিজলি, কিসান, সবই বেচে দেবে, কিন্তু মাটির দিব্যি দেশ বেচতে দেব না : বাজেট নিয়ে ব্যঙ্গ বিরোধীদের

Railways, roads, airports, electricity, farmers, everything will be sold, but the land will not be sold: the opposition to the budget satire

ইস্টার্ন টাইমস , নয়াদিল্লি : অর্থনীতিবিদরা দাবি করেছিলেন, গরিব মানুষদের হাতে সরাসরি নগদ দেওয়া হোক। তাহলেও দেশে অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। উৎপাদিত সামগ্রীর বিক্রি বাড়বে। ফলে বাড়বে কর্মসংস্থানও। কিন্তু বাজেটে তেমন কিছুই হল না।

সংসদে বাজেট প্রস্তাব পেশ হবার পরেই কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী টুইটারে লিখেছেন , ‘‌লোকের হাতে নগদ দেওয়া দূর, মোদি সরকার ভারতের সম্পত্তিই অন্তরঙ্গ পুঁজিবাদী বন্ধুদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।’‌ লোকসভায় কংগ্রেসের নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরি প্রায় একই সুরে বলেছেন , ‘‌যেহেতু অন্য রকম এই সময়ে বাজেট পেশ হয়েছে, তাই আমরা অন্য রকম কিছু আশা করেছিলাম।

কিন্তু এই অন্য রকম সময়ে সরকার সাধারণ বাজেটে নিজেকে বাঁচানোর জন্য বেসরকারিকরণের পথ নিল।’‌ তাঁর আরও অভিযোগ, ‘‌কয়েক রাজ্যে ভোট রয়েছে। তাই সরকার ভোটের পথ তৈরি করল। গরিবদের হাতে নগদ দেওয়া হবে ভেবেছিলাম। কিছুই হল না।’

সোমবার কেন্দ্রীয় বাজেটের সমালোচনায় সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘অপেক্ষা করুন আবার দাম বাড়বে।

তিনি বলেন, জ্বালানিতে সেস বসিয়েছে। সেস আপনাদের শেষ করে দেবে। নীলকরের মতো, জিজিয়া করের মতো সেসের টাকা তুলে নিয়ে চলে যায় কেন্দ্র।’ তিনি এই বাজেটকে কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘ভেকধারী সরকারের ফেকধারী বাজেট।’

তিনি আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়িয়ে বলেন, ‘দেশটাকে বিক্রি করে দিচ্ছে। আর এদিকে দেশপ্রেমের কথা বলছে। কোনওদিন সব বেঁচে দিয়ে দেশ ছেড়ে পালাবে কে জানে! কেন্দ্রের কারও চাকরি সুরক্ষিত নয়।

কারণ সব বিক্রি করে দিচ্ছে। রেল, সেল, বিএসএনএল, কোল সব বিক্রি।’ জেটে এ রাজ্যে কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘তোমরা আবার কী করবে? আমরা তো করে দিয়েছি। সবটাই রেডি আছে।

নতুন করে কলকাতা শিলিগুড়ি কী করবে? বাঙালকে হামাগুড়ি শেখাচ্ছো?’এরপরই মমতা বলেন, ‘কোচবিহারে আমরা এয়ারপোর্ট কানেকটিভিটি করে দিয়েছি।

মালদায় করে দিয়েছি, বালুরঘাটে করে দিয়েছি। আমি আসামকে ভালবাসি। তোমরা আসামে প্লেন চালাতে পারলে কোচবিহারে কেন চালাও না? পাঁশকুড়া থেকে বর্ধমান হয়ে আরও একটা পথে দক্ষিণ বঙ্গ – উত্তরবঙ্গকে জোড়া হচ্ছে।’

পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র বলেছেন , ‘‘বিভ্রান্ত দিশাহীন বাজেট । মধ্যবিত্তের জন্য এই বাজেটে কিছুই নেই। করোনা পরবর্তী সময়ে বাজার চাঙ্গা করতে মানুষের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দেওয়া দরকার ছিল।

যাতে বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তা দিল না কেন্দ্র। উল্টে সরকারের শেষ পুঁজিটুকু বেচে দেওয়ার বাজেট পেশ হল সোমবার।’’

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন ‌ ‘‌এই বাজেট কিছু বড় সংস্থাকে সুবিধা দেবে। এই বাজেট মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের সমস্যা বাড়াবে।’‌কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা বলেছেন ‘‌দেশের সাহসী বাজেটের দরকার ছিল। দুর্বল শ্রেণীকে সরাসরি অর্থ জোগানোর দরকার ছিল, যাতে চাহিদা বাড়ে।

কর্মসংস্থান বাড়ে।’ কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর ব্যঙ্গ করে বলেছেন ,‘‌বিজেপি সরকার সেই গ্যারেজ মেকানিকের কথা মনে পড়াল, ‌যিনি গাড়ির মালিককে বলেছিলেন, আপনার ব্রেক ঠিক করতে পারব না।

তাই হর্নের শব্দটা বাড়িয়ে দিলাম।’‌কংগ্রেসের অন্যতম মুখপাত্র মণীশ তিওয়ারির মন্তব্য , ‘‌জিডিপি ৩৭ মাসে সর্বনিম্ন। ১৯৯১ সালের পর এ রকম সঙ্কট আসেনি। .‌.‌ দিশাহীন বাজেট।

অর্থনীতির‌ বৃদ্ধি নিয়ে ভাবব না, কিন্তু পরিবারের রুপো বেচে দেব।’‌ বাজেট প্রস্তাবকে তীব্র কটাক্ষ করে আম আদমি পার্টি টুইটারে হিন্দিতে লিখেছে, ‘‌রেল, সড়ক, এয়ারপোর্ট, বিজলি, কিসান, সবই বেচে দেবে। কিন্তু এই মাটির দিব্যি, আমি দেশ বেচতে দেব না।’‌

Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের চা শ্রমিকদের কল্যাণে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ

Read Next

কৃষক আন্দোলন নিয়ে আলোচনার দাবি , প্রতিবাদে রাজ্যসভায় বিরোধীদের ওয়াক আউট

Leave a comment

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.