Breaking News

কৃষক আন্দোলন : রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপের দাবি কংগ্রেসের

Peasant movement: Congress demands President's intervention

হরিয়ানায় ১৩ কৃষকের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীকে খুনের চেষ্টার মামলা

ইস্টার্ন টাইমস, নয়াদিল্লি: দেশে গণতন্ত্র বলে কিছুই নেই, এ মন্তব্য কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর । তাঁর আক্রমণের নিশানায় নরেন্দ্র মোদী ছাড়া আর কেউ নন।বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি রামনাথ কবিন্দের সঙ্গে সাক্ষাত করে তাঁর হস্তক্ষেপ দাবি করেন রাহুল। পরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কতগুলো পুঁজিপতি বন্ধুদের টাকা কামানোর উপায় করে দিচ্ছেন।

তাঁর বিরুদ্ধে যে-ই কথা বলবে, সে কৃষক হোক বা শ্রমিক, তাঁদের জঙ্গি বলে দাগিয়ে দেওয়া হবে। এমনকী, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতও যদি মোদীর বিরুদ্ধে কথা বলেন, তাঁকেও জঙ্গির তকমা দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রাপতির কাছে গিয়েছিলেন আন্দোলনরত কৃষকদের কথা বলতে। এই দলে ছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ,গুলাম নবী আজাদ সহ অন্য নেতারা।

পুলিশ আটকে দেয় সবাইকে।পরে তিনজনকে রাষ্ট্রপতি ভবনে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।এর পর পথেই বসে পড়েন প্রিয়াঙ্কারা। রাহুল সহ তিনজন চলে যান রাষ্ট্রপতিভবনে।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী রাস্তায় বসেই বলেন, ‘‌সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই সন্ত্রাস–যোগ খোঁজা হচ্ছে। কৃষকদের সমর্থনের জন্যই এই পদযাত্রা করছি।’‌পুলিশ কংগ্রেস নেতাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

আটক অবস্থায় ডিটিসি বাস থেকেই ফের কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেন প্রিয়াঙ্কা। বললেন, ‘‌কখনও ওরা বলে আমরা এতটাই দুর্বল, যে বিরোধী হওয়ার যোগ্যতা নেই, কখনও আবার বলে, আমরা লক্ষ কৃষককে দিল্লি সীমান্তে জড়ো করেছি। ওরা আগে সিদ্ধান্ত নিক, যে আসলে আমরা কী।’‌

রাষ্ট্রপতি রামনাথ কবিন্দের সঙ্গে দেখা করার পর রাহুল অপেক্ষারত সাংবাদিকদের বলেন, ‘‌প্রধানমন্ত্রীর জানা উচিত যে কৃষকরা প্রতিবাদস্থল ছাড়বেন না।’‌

অন্যদিকে ,কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন জানানোর জন্য দিল্লিতে আম আদমি পার্টির(আপ) দপ্তরে হামলা চালিয়েছে বিজেপি।

আপ নেতা ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল হরিয়ানা-দিল্লি সীমান্তের সিংঘু-তে অবস্থানরত কৃষকদের সঙ্গে দেখা করে তাদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।

প্রকাশ্যে কৃষি বিলও ছিঁড়ে ফেলতে দেখা গেছে তাঁকে। ‘‌বার্তা’ দিতে এবার আপ বিধায়ক রাঘব চাড্ডার কার্যালয়ে হামলা চালালেন ‘‌না–খুশ’ বিজেপির নেতা–কর্মীরা। দিল্লি জলবোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান রাঘব চাড্ডা।

সংবাদমাধ্যমে তিনি জানান, ‘‌এদিন দুপুর সাড়ে বারোটা থেকে জল বোর্ডের সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন গেরুয়া শিবিরের নেতা–কর্মীরা। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে স্লোগানও তোলা হয়। তারপরই চলে হামলা।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন দিল্লি বিজেপির সভাপতি অদেশ গুপ্ত। এমনকি বিজেপি কর্মীরা হুমকি দিয়ে বলে গেছেন, ‘‌কৃষক আন্দোলন থেকে দূরে থাকতে বলুন কেজরিওয়ালকে।’‌’‌

খবর পেয়েই টুইটারে মুখ খোলেন কেজরি। লেখেন, ‘‌শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াব। যাঁরা কাপুরুষের মতো হামলা চালায়, তাঁদের ভয় পাই না। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বলতে চাই, বিজেপির হামলায় প্ররোচিত হবেন না। কৃষকদের সবরকমভাবে সহায়তা করুন। সমর্থন দিন।’‌

এখানেই শেষ নয়। নানাভাবে কৃষক আন্দোলনের সমর্থকদের হেনস্থা করার ঘটনা ঘটছে। দুদিন আগে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় যখন আম্বালা দিয়ে যাচ্ছিল, তখন কালো পতাকা দেখান কয়েক জন কৃষক। সরকার–বিরোধী স্লোগান তোলেন। কয়েক জায়গায় রাস্তাও আটক করেন। মঙ্গলবারের ঘটনা।

এবার এই ঘটনায় ১৩ জন কৃষকদের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টারকে খুনের চেষ্টার মামলা আনল হরিয়ানা পুলিশ। মঙ্গলবার আম্বালায় পুরভোটের প্রচারে গেছিলেন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টার।

অগ্রসেন চকে তাঁর কনভয় লক্ষ্য করে কালো পতাকা দেখান কৃষকরা। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েক জন কৃষক লাঠি উঁচিয়ে হামলার চেষ্টা করেছেন।

কিছু জায়গায় কনভয়ের পথ আটকের চেষ্টা করেন কৃষকরা। তার জেরে চার্জ আনল পুলিশ। হরিয়ানা কংগ্রেসের প্রধান কুমারী শৈলজা বলেছেন , কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলা করে সমস্ত সীমা ছাড়িয়েছেন রাজ্য সরকার। গণতন্ত্রে সকলের কথা বলার অধিকার আছে। সেই অধিকার কেড়ে নিলে তাঁরা পথে নামতে বাধ্য হন। তাঁর দাবি, সরকারের এখনই মামলা তুলে নেওয়া উচিত।

 

Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে এবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গুজরাত-যোগ

Read Next

কেমন যাবে আপনার আজকের দিনটি : দৈনিক রাশিফল

Leave a comment

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.