Breaking News

জনতা নয়, ক্যাডার

Not the crowd the cadre bjp

তাপস দাশ

বাংলার রাজনীতিতে কিছু বছর আগে ক্যাডার কথাটার চল ছিল খুব। মূলত বামপন্থী পার্টির কর্মীদের ক্যাডার বলে অভিহিত করা হত। কর্মীরা নিজেদের ক্যাডার ভাবতে শ্লাঘা বোধ করতেন শুরুর দিকে, কারণ তা বাম আন্দোলনের সঙ্গে অঙ্গীভূত থাকার পরিচায়ক ছিল।

সিপিএম আমলের মাঝের দিকের কিছু পরে ক্যাডার বলে নিজেদের পরিচয় দিতে কিছু মানুষ শ্লাঘা বোধ করতেন অন্য কারণে। তা জনতার মনে সম্ভ্রম নয়, ভয়ের উদ্রেক করত। সে ভয়কে কাজে লাগিয়ে নানা কার্যোদ্ধার, বা নেহাৎই মাস্তানি অথবা শুধুই দাদা হয়ে থাকবার বাসনা হয়ে উঠেছিল প্রবল।

১৯৯০ সালে, বাংলায় ১২ পার্টি আন্দোলন যখন জোরদার, সে সময়ে এই আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় এক কর্মীকে কলকাতার দুপুরে ঘিরে ফেলেছিল সিপিএমের বাহিনী।

তিনি আশপাশের জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে “ক্যাডার, ক্যাডার” বলে চিৎকার করেন ও প্রাণে বাঁচেন। পুরনো আমলের নকশাল আন্দোলনের সেই মানুষটি কয়েকঘণ্টা পর দলীয় দফতরে বসে আক্ষেপ করেছিলেন, “ক্যাডার”- এর মত একটি ঐতিহ্যবাহী পরিচয়কে এই পরিস্থিতিতে নামিয়ে আনার জন্য। তাঁর জ্যেষ্ঠরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু সকলেই ছিলেন নির্বাক। তারপর ও তার আগে ক্যাডাররাজ ও জঙ্গলরাজ সমার্থক হয়ে উঠবে সংবাদপত্রের পাতায়।

আজকের পরিস্থিতিতে ক্যাডাররাজের প্রসঙ্গ উঠল জে পি নাড্ডার চা চক্র সম্পর্কিত প্রতিবেদন পড়তে গিয়ে। জানা গেল, কলাইকুণ্ডার চা চক্রে নাকি নাড্ডা প্রশ্ন করেছেন চাল চোর কে, ত্রিপল চোর কে, বালি চোর কে; আর উপস্থিত জনতা উত্তরে রাজ্যের বর্তমান শাসকদলের নাম করেছেন।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে, জনতা শব্দটিই লেখা হয়েছে, ক্যাডার নয়। ক্যাডার শব্দটি, সম্ভবত আজকাল আর তত জনপ্রিয় নেই, মিলেনিয়াল সাংবাদিকরা হয়ত তত জানেনও না। হতে পারে, ক্যাডার শব্দটি কেবল বাম পার্টি ও সংগঠনের সঙ্গেই যুক্ত বলে মান্য। কিন্তু জনতা?

জনতা শব্দটি কি ক্রমশ যে কোনও সময়ে, যে কোনও ক্ষেত্রে ব্যবহার্য হয়ে উঠছে? একটি শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ের বুলিকে জনতার বক্তব্য বলে প্রচার করার মত ঘটনা কি বর্তমানে সংবাদমাধ্যমে ঘটতে থাকবে?

না, আমরা গোদী মিডিয়ার কথা বলছি না। গোদী মিডিয়ার বাইরে অবস্থিত বলে পরিচিত সংবাদমাধ্যমগুলির কথাই আলোচ্য।

এর পিছনে হয়ত কোনও রাজনৈতিক অঙ্ক থাকতে পারে, অ-ইংরেজি, আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম দিয়ে শুরু করে শাসকঘনিষ্ঠ হবার কোনও ব্যবসায়িক চাল থাকাও অসম্ভব নয়। তেমন হলে তা নিয়ে আলোচনার নেই। কিন্তু জনতাকে, জনতার ক্ষমতা ও তার ব্যাপ্তিকে নিয়ে ছেলেখেলা করার অবকাশও দেওয়া যাবে না।

নাড্ডার মত একজন প্রায় কেউ না (তা সে তিনি যতই বিজেপির মস্ত সভাপতি হোন না কেন)-র চা চক্রে দলে দলে যাঁরা যোগ দিয়েছিলেন, তাঁরা, আর যাই হোক জনতা হতে পারেন না।

জনতার ভোটে বিজেপি কেন্দ্রের ক্ষমতায় এসেছে হয়ত, আবারও হয়ত আসবে কোনও কোনও রাজ্যে, কিন্তু নাড্ডার কলাইকুণ্ডার সভায় যারা চোর হিসেবে তৃণমূলকে সোচ্চারে চিহ্নিত করেছে, তারা জনতা নয়। সে তৃণমূলের চৌর্যবৃত্তি সত্যি হলেও নয়, মিথ্যে হলেও নয়। ঠিক যেমন গোলি মারো সালোঁকো বলে যারা বিজেপির অনুরাগ ঠাকুরের প্রশ্নের উত্তরে সোচ্চার হয়েছিল, তারাও জনতা ছিল না।

অনুরাগের প্রসঙ্গটা এই কারণে উল্লেখ আরও জরুরি যে, অনুরাগ ঠাকুর জনতার বলা কথার দায় নেননি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর, এক সভায় বলেছিলেন, “দেশ কি গদ্দারোঁ কো”; উপস্থিত বিজেপি কর্মী সমর্থকরা, তার পাদপূরণ করে বলেছিল, “গোলি মারো সালোঁ কো”।

নির্বাচন কমিশন এ নিয়ে অনুরাগ ঠাকুরের বিরুদ্ধে শো কজ নোটিস জারি করে। শো কজের উত্তরে অনুরাগ বলেন, স্লোগানের দ্বিতীয় অংশ তিনি উচ্চারণ করেননি, অর্থাৎ গুলি করার কথা যারা উচ্চারণ করেছে, তার দায় মন্ত্রীর নয়।

কথাটা সম্পূর্ণত মিথ্যে নয়। অনুরাগ নিজে এ স্লোগান দেননি। প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি অন্যদের “গোলি মারো…” অংশটি আরও গলা ছেড়ে বলার আহ্বান রাখছেন।

নাড্ডার সভায় আরও গলা ছেড়ে তৃণমূলকে চোর বলার আহ্বান রাখা হয়েছিল কিনা জানা নেই। কিন্তু সেখানে যারা উপস্থিত ছিল, তারা ক্যাডার, জনতা নয়, এ নিয়ে দ্বিধা বা সংশয়ের অবকাশ নেই।

কোনও নির্দিষ্ট ধরনের কাজের ব্যাপারে প্রশিক্ষণরত বা পেশাদাররাই ক্যাডার। সরল অভিধানে তেমনই বলা আছে।

Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

উহানের ল্যাব থেকে ছড়ায়নি করোনা! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

Read Next

বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের বিনামূল্যে টিকা দিচ্ছে বাংলাদেশ, প্রথমদিনে স্বস্ত্রীক টিকা নেন ভারতের রাষ্ট্রদূত দোরাইস্বামী

Leave a comment

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.