Breaking News

মমতা কিন্ত হাতে চুড়ি পরেন

bengal election bjp vs trinamool congress

তাপস দাশ

তৃণমূলকংগ্রেসের এক জেলা সভাপতি বুধবার বলেছেন, তাঁরা হাতে চুড়ি পরে বসে নেই। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার এই নেতার নাম অজিত বাইরি।

তাঁর এ কথা প্রতিক্রিয়াজনিত। দিলীপ ঘোষের এক ভাষমের পরিপ্রেক্ষিতে এই বক্তব্য সোচ্চারে জানিয়েছেন মমতার দলের এই নেতা। দিলীপ ঘোষ কী বলেছিলেন, তা একটু পরে আলোচ্য।

ঘটনা হল, অজিত বাইরির মত জেলার নেতাদের মুখেই কেবল এ কথা শোনা যায়, এমন নয়। কয়েক মাস আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই ভাষাতেই বিজেপির বিরুদ্ধে হুংকার ছেড়েছিলেন।

হাতে চুড়ি পরে বসে নেই, এ কথাটা নতুন নয়। কথাটা পুরনো, এবং পিতৃতন্ত্র নিয়ে যখন এত রকম বয়ান ও সন্দর্ভ রচিত হয়নি, নারীবাদ যখন এত বেশি আলোচনায় উঠে আসত না, তখনও এ কথাটা সর্বসমক্ষে বলার মত নয় বলেই বিবেচিত হত।

  • দিলীপ ঘোষ ও অমর্ত্য সেনের কোর কম্পিটেন্স :তাপস দাশ >>

এ কথাটার মধ্যে একটা অপমান রয়েছে, মেয়েদের খাটো করে দেখানোর দীর্ঘকালীন অভ্যাস থেকে এ রকম একটা কথা উঠে আসে।

এর মধ্যে রয়েছে পৌরুষের আস্ফালন। পৌরুষ, যা কেবলমাত্র পুরুষের অধিগত, যা সাহস ও ক্ষমতার এক ও একমাত্র আধার বলে গণ্য হয়ে থাকে, নারী সশক্তিকরণের বহুরকম প্রকল্প ও চর্চা সত্ত্বেও।

২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী পেল। তখন অনেকে আশা করেছিলেন, একটা কিছু বদল ঘটবে, সামান্য হলেও। তেমনটা হয়েছে কি হয়নি, সে এখানে আলোচ্য নয়। কিন্তু নিজ যে শীর্ষনেত্রী হওয়া সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের অভ্যন্তরেই এমনকী কড়ে আঙুল প্রতিম পুরুষ নেতাদের পৌরুষের ন্যক্কারজনক আস্ফালন যে বন্ধ করতে পারেননি, তা সুস্পষ্ট।

সুস্পষ্ট এও যে, একসময়ে যে সব কথা পাড়ার রোয়াকেই সীমাবদ্ধ থাকত, সে সব কথা এখন মাইকে বলা হয়, কোনও অনুশোচনার বোধ ছাড়াই, বশংবদদের প্রবল করতালির মধ্যে। সে বশংবদদের মধ্যে মহিলারাও থাকেন সম্ভবত, নিশ্চিতভাবেই।

দিলীপ ঘোষ বুধবার হিন্দু জাগরণ মঞ্চের এক সভায় যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, রাজ্যে ধর্ষণ বাড়ছে, এবং ধর্ষণ ঠেকাতে হিন্দু যুবকদের হাতে অস্ত্র তুলে নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ক্ষেত্রে আগে থানায় গেলে চলবে না, প্রতিশোধ নেবার পর থানায় যেতে হবে।

দিলীপ ঘোষের বক্তব্যের দুটো প্রেক্ষিত আছে, তার প্রথমটা হল, আইনের রাস্তায় না হাঁটা। দিলীপরা খুব স্পষ্টভাবে একটা উচ্ছৃঙ্খলতা তৈরি করতে চাইছেন, যার মাধ্যমে তাঁরা অশান্তি দিয়ে ও দাঙ্গা দিয়ে তাঁদের পক্ষে অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করার একটা মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। এর জেরে যদি কেন্দ্রীয় সরকারের কিছু কড়া নিদান রাজ্যপাল ধনখড়ের মাধ্যমে জোগাড় করা যায়, তা আরও চমৎকার হতে পারে।

এটা তাঁদের রণনীতি ও রণকৌশল। এই আইনের প্রতি অনাস্থা তৈরি করা এবং দ্রুত নিষ্পত্তি একটা বড় রণনীতির অঙ্গও বটে, যা সফল হতে দেখা গিয়েছে কিছুদিন আগে হায়দারাবাদ ধর্ষণের ঘটনায়। ধর্ষণে অভিযুক্তদের পুলিশ গুলি করে মেরেছিল। পুলিশ তাদের সপক্ষে সাফাই দিয়েছিল, অভিযুক্তরা পালাতে গিয়েছিল, ফলে তারা বাধ্য হয়ে গুলি চালায়। একমাত্র আইনের কাগজপত্র ছাড়া সে কথা কেউ সম্ভবত বিশ্বাস করেনি। এবং বহু ভারতবাসী এ ঘটনায় উদ্বাহু নৃত্যে মেতেছিল। যুক্তি ছিল, ধর্ষক মরেছে, বেশ হয়েছে।

এই অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনাহীন এক শ্রেণির নাগরিক উৎপাদন করতে পারা যে কোনও রাষ্ট্রবাদী দল বা ব্যক্তির কাছে অতীব কাঙ্ক্ষিত।

উদ্বাহু নৃত্যকারী অবিমৃষ্যকারী জনতা ক্রমশ আইনি পথ, অভিযুক্ত ও অপরাধীর মধ্যেকার ফারাক বিস্মৃত হতে থাকবে, তাদের একমাত্র ভরসাস্থল হয়ে থাকবে এক অতি শক্তিশালী রাষ্ট্র। সে রাষ্ট্রের প্রতিনিধি ও উর্দি পরা তাণ্ডবকারীদের প্রশ্ন করার মত কেউ থাকবে না, এর চেয়ে বেশি কী-ই বা চাওয়ার থাকতে পারে সংঘ পরিবারের মত একদেশদর্শী সংস্কৃতির ধারক ও বাহকদের কাছে?

বাম-কংগ্রেস ভোটের জোট : ইতিহাস ও ভূগোল: তাপস দাশ  >>

দিলীপ ঘোষের বক্তব্যের দ্বিতীয় প্রেক্ষিতের সঙ্গে তৃণমূলের অজিত-কল্যাণের কোনও বিরোধ নেই। দিলীপের বক্তব্য অনুসারে পুরুষরাই মহিলার ধর্ষণ রোধে সক্ষম।

মহিলাদের রক্ষক হতে পারেন যুবকরা। অর্থাৎ মহিলারা দুর্বল, তাঁদের রক্ষক প্রয়োজন। এরকম কথা যোগী আদিত্যনাথ থেকে শুরু করে বহু বিজেপি নেতার মুখে শোনা যায়, দিলীপ তার প্রতিধ্বনি করেছেন মাত্র। তাঁদের পক্ষে এ ভাবনা খুবই স্বাভাবিক, এবং এ ধারণা যে পশ্চাৎমুখী, তা তাঁরা ভাবতেও পারবেন না।

মুশকিল হল, তৃণমূলের অজিত-কল্যাণরাও এর বাইরে ভাবতে পারেন না। অথচ একটু খেয়াল করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে, বা তাঁর ছবির দিকে তাকালে তাঁরা দেখতে পেতেন, মমতা কিন্তু হাতে চুড়ি পরেন। এবং কল্যাণ বা অজিতের যা বোলচাল, তা ওই অতীব ক্ষমতাশালী মহিলার দৌলতে প্রাপ্ত।

Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

কেমন যাবে আপনার আজকের দিনটি : দৈনিক রাশিফল

Read Next

কৃষি আইনের প্রতিবাদে আরও এক কৃষকের আত্মহত্যা ; দাবি না মানলে কৃষকদের আরও বড় আন্দোলনের ঘোষণা

Leave a comment

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.