Breaking News

প্রধানমন্ত্রীর কাছে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ত্রিপুরার সাংবাদিকদের

অপূর্ব দে ,আগরতলা: সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর হুমকির বক্তব্য প্রত্যাহার না করায় এবার প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রেস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হলেন ত্রিপুরার সাংবাদিকরা| ‘এসেম্বলি অফ জার্নালিস্ট’-এর ব্যানারে দেওয়া হলো চিঠি|

যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর হুমকি এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘটা সমস্ত ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে| সুস্থ গণতন্ত্রের স্বার্থে বিষয়টিতে তাঁদের হস্তক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে|

চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেছেন, রাজ্য সরকার কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে| সবকিছু ঠিকঠাক আছে, কিন্তু একাংশ সংবাদ মাধ্যম অতি উত্সাহী হয়ে উল্টাপাল্টা লিখে চলেছে| মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এদেরকে ছাড়বেন না, ইতিহাস সাক্ষী, এদেরকে মানুষ ক্ষমা করবেন না|

এই ধরনের অভূতপূর্ব এবং সরাসরি হুমকি দেওয়ার পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ শুরু হয়| বিভিন্ন ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জন সাংবাদিক নিগ্রহ হয়েছেন| সাংবাদিকদের সংগঠন ‘এসেম্বলি অফ জার্নালিস্ট’-এর পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেওয়ার দাবি জানিয়ে এক সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছিল|

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী এই দাবি উপেক্ষা করায় ১৯ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকরা রাজ্যপালের দ্বারস্থ হন| রাজ্যপাল রমেশ বৈশ বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে আশ্বস্ত করলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি| পরে রাজ্যপালকে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্যও চিঠি দেওয়া হয়েছে| কিন্তু সেই চিঠিরও কোনো জবাব আসেনি| এই অবস্থায় এসেম্বলি অফ জার্নালিস্ট গান্ধী-জয়ন্তীতে কালো ব্যাজ পরে আগরতলা প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচিও করেছে|

চিঠিতে লেখা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেওয়ার এই আন্দোলনে অংশ নেওয়া সংবাদ মাধ্যমগুলোর বিজ্ঞাপন কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে| গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদ মাধ্যম কোভিড পরিস্থিতিতে চিকিত্সা ব্যবস্থা নিয়ে শুধুমাত্র বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছিল, কোনো ধরনের আতংক তৈরি করেনি| জনগণের স্বার্থেই এইসব প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল|

তার পরেও একটা অদ্ভুত পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে| আজ পর্যন্ত ত্রিপুরার কোনো মুখ্যমন্ত্রী এমনভাবে সরকারি মঞ্চ ব্যবহার করে হুমকি দেন নি| ত্রিপুরায় এখন সংবাদ মাধ্যম এক কালো অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে| দুর্বল প্রশাসন সংবাদ মাধ্যমকে যেন শত্রু বলে মনে করছে| এমনকি সত্তরের জরুরি অবস্থার সময়েও সংবাদ মাধ্যম এই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়নি|

সংবাদ মাধ্যম সরকারের মুখপত্র নয়, সমাজ ও জনগণের স্বার্থে বিভিন্ন চিন্তা ও চেতনার প্রকাশ করা সংবাদ মাধ্যমের মৌলিক অধিকার| তাই ‘এসেম্বলি অফ জার্নালিস্ট’ আশা করেছিল আলোচনার মাধ্যমে এই পরিস্থিতির সমাধান হবে| কিন্তু তা হয়নি| তাই বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে সুস্থ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে এই চিঠিতে

Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

বাংলাদেশে ধর্ষণের মহোৎসব শুরু হয়েছে, শেখ হাসিনার ইস্তফা চায় বিএনপি

Read Next

বিজেপির কর্মসূচির শুরুর পর থেকেই অশান্তি চরমে

Leave a comment

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.