Breaking News

শান্তিনিকেতনে, পৌষমেলার পরিবর্তে

In Santiniketan, instead of Poushmela

তাপস দাশ

নিজেরাময়লা ফেলে আর সাফ করেনি বিজেপি। সে নোংরা পরিষ্কার করছে অন্যরা, যারা ভূমিপুত্র। মাঠকে পুরনো চেহারায় ফিরিয়ে দিচ্ছে তারা, ফিরিয়ে আনছে ঐতিহ্য।

শান্তিনিকেতন। পৌষে শান্তিনিকেতন বলতে, পৌষমেলা। প্রতিদিন হাজারো মানুষের সমাগম, হাতের কাজ, বাউল-ফকিরি-কীর্তন গান। বাংলার মাটির সংস্কৃতিতে বুঁদ হয়ে থাকা।

এ বছর তেমনটা ঘটার কথা ছিল না। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ জানিয়েই দিয়েছিল, অতিমারী পরিস্থিতিতে পৌষমেলা বাতিল। যেমনভাবে দেশব্যাপী সমস্ত চলাচল বন্ধ করে দেবার সময়ে ভাবা হয়নি কীভাবে নিজ এলাকায় ফিরবেন অন্যত্র কাজ করা মানুষজন, তেমনভাবেই পৌষমেলার মত অনুষ্ঠান বাতিল করার ফলে কী হবে হস্তশিল্পী সহ অন্যান্য মানুষদের, সে নিয়ে কোনও বিকল্প ভাবনা ছিল না বিশ্বভারতীর।

 

 In Santiniketan, instead of Poushmela

কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে কি শান্তিনিকেতন জমায়েত মুক্ত থাকতে পেরেছে? না। গত সপ্তাহেই এখানে সভা করেছেন অমিত শাহ। অমিত শাহের সভায় হাজিরার সংখ্যা কম ছিল, এমন দাবি কি করবেন তিনি? দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমাবেশে করোনা বিধি মেনেই জমায়েত হয়েছে, এমন দাবি কি করবে বীরভূম জেলা বা রাজ্যের অন্যসব দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকরা? এর উত্তরও না, আমরা সকলেই জানি।

এই সব না-এর মাঝে, এত সব নেতিবাচকতার মাঝে ইতিবাচক কিছুই কি নেই এই পৌষে, শান্তিনিকেতনে? এর উত্তরও না। কারণ ইতিবাচক আছে, আছে উদাহরণ হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষা।

বীরভূম জেলায় বেশ ভাল উপস্থিতি রয়েছে বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চের। অমিত শাহ যে মাঠটিতে সভা করেছিলেন, সেই মাঠ তিন দিন ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে বীরভূম জেলা পরিষদের কাছে আবেদন করা হয়েছিল সংস্থার তরফ থেকে। সে আবেদনের প্রেক্ষিতে সম্মতি দিয়েছে জেলা পরিষদ, অমিত শাহ সভা সেরে যাবার দুদিন পর, গত ২১ ডিসেম্বর। মাঠ তখন অমিতদের ফেলে যাওয়া আবর্জনায় ভর্তি।

 

 In Santiniketan, instead of Poushmela

এ মাঠ এখন ভরভরন্ত। বিশ্বভারতী যা করেনি, তা করে দেখাচ্ছেন, বাংলার ভূমিপুত্ররা। আশ্রমিক ও প্রাক্তনীদের সক্রিয় সহযোগিতায় এ মাঠে পৌষমেলার জন্য নির্ধারিত তিন দিন ধরে সমাগম হবে। শান্তিনিকেতনি ঐতিহ্য সম্পূর্ণ বিসর্জন দেওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা যখন সম্পূর্ণ হতে চলেছে, সে সময়েই বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চ এই চ্যালেঞ্জ নিয়েছে। তারা অবশ্য একে মেলা বলছে না, বলছে পৌষ পার্বণ।

এ মাঠ, মেলার মাঠ নয়। আকারে ছোট। সেখানে স্টলের সংখ্যাও অনেক কম হবে, স্বাভাবিক। কিন্তু যা স্বাভাবিক শোনাবে না, তা হল, এ পার্বণে যোগ দেবার জন্য স্টলগুলিকে কোনও অর্থ দিতে হচ্ছে না। পৌষ মেলার সময়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ যে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে থাকে, এখানে তেমন কোনও ব্যাপার নেই। সংগঠনের তরফ থেকে সামিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই এলাকার হস্তশিল্পীরা যে ভয়াবহ আর্থিক দুরবস্থার মধ্যে পড়েছেন, সে ব্যাপারে তাঁরা সম্যক অবহিত। তাঁদের নতুন করে কোনও চাপের মুখে ফেলতে চাইছেন না তাঁরা। বরং চাইছেন তিনটে দিনের জন্য এই হস্তশিল্পীরা নিজেদের মত করে ব্যবসাবাণিজ্য করুন।

 

 In Santiniketan, instead of Poushmela

শুধু বাণিজ্যপ্রক্রিয়াই নয়, পৌষমেলার মত বিশালাকারে না হলেও, সংস্কৃতির অঙ্গনও থাকছে। বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চের তরফে তন্ময় ঘোষ জানিয়েছেন, বাউল গান, কীর্তন থাকছে, থাকছেন রবীন্দ্রনাথও নানা রূপে।

এমনকী, অমিত শাহের সভায় যিনি গান গেয়েছিলেন, সেই সনাতন দাস বাউলও বুঝেছেন, কী ভুলটাই না হয়েছে! তিনিও যোগ দেবেন পার্বণে।

বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য সবুজকলি সেন এই পার্বণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। পৌষমেলার সময়ে যেমন বোলপুর স্টেশন থেকে গেট শুরু হয়, তেমনই এবারও গেট শুরু হয়েছে সেখান থেকেই।

কীভাবে এ আয়োজনের অর্থ সংগ্রহ হচ্ছে? বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চের তরফ থেকে জানান হয়েছে, তাঁরা ক্রাউডফান্ডিংয়ে ভরসা রাখছেন। বিভিন্ন বন্ধু ও সহযোগীরা অর্থসাহায্য করছেন, সমমনস্করা দূর থেকে হলেও এগিয়ে আসবেন বলে তাঁদের বিশ্বাস।

অমিত শাহদের আবর্জনা সরিয়ে বিশ্বভারতীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে একটা বার্তা দেওয়া যাচ্ছে। সে কালের ধ্বনি শুনতে পাওয়া চাই।

Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

কৃষক আন্দোলনের সংহতিতে প্রতীকী অনশনে শামিল ভীমা কোরেগাঁও মামলায় আটকরা

Read Next

শুভেন্দু মীরজাফরদের দলে নাম লিখিয়েছে, বললেন সৌগত রায়

Leave a comment

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.