Breaking News

সাধারণতন্ত্রে, নিদ্রাভঙ্গে

Hindu-Hindi nationalism is an ideology

তাপস দাশ

আজকের দিনটায়, অন্তত উপলক্ষগতভাবে, থার্ড পার্সন সিঙ্গুলার নাম্বারের কথা লেখা যায়। ফলে নিজের কথা, অভিজ্ঞতার কথা বলা যাক।

সাত সকালে ছিল মাইক টেস্টিং। যা ঘুম থেকে তোলাবেই, বাধ্যত। আড়ামোড়া ভাঙতে ভাঙতে, পাশ ফিরে আরেক প্রস্থের চেষ্টা করতে করতে, রক্ষা হয় না। গান চালু, চালু বক্তৃতাও।

এসব দিনে ভাষণগুলি হয় দৃপ্ত, অন্তত তেমনটাই চেষ্টা থাকে। তার সঙ্গে জুড়ে থাকে আক্ষেপ। কী হতে পারত, কিন্তু হওয়া হল না। হওয়া গেল না। এর সঙ্গে থাকে নানারকম প্রস্তাবনাও।

সব পাড়াতেই থাকেন কিছু অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মানুষ। থাকেন কিছু চিন্তাশীল মানুষ। থাকেন কিছু আত্মবিশ্বাসী মানুষ। এই তিন গুণ যখন এক দেহে লীন হয়, তখন ভারী মুশকিল হয়, সাধারণের পক্ষে।

এইরকম দিবসগুলিতে অবশ্য তেমন সব মানুষদেরই খোঁজ পড়ে, তাঁরা ভাষণ দেন, নাতিসংক্ষিপ্ত ভাষণ, যা মাইকের জেরে শুনতেই হয়। (এ প্রসঙ্গে মনে হল, স্বাধীনতা দিবস বা সাধরণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানগুলিতে শব্দবিধি ভঙ্গ নিয়ে কেউ কখনও কি কোনও অভিযোগ তুলেছে?)

এ পাড়ার ২০২১ সালের ২৬ জানুয়ারির এখটি ভাষণ ছিল এরকমই মোক্ষম। এতটাই যে তা নিয়ে দু কথা লিখতে সাধ গেল। তেমন সাধের আরেকটা কারণ হল, একটা মহলে এ কথাগুলো বেশ চালু।

কথাগুলির সারমর্ম হল, মতাদর্শের বাইরে বেরিয়ে মানুষকে মানুষ হিসেবে বাঁচতে হবে। মতাদর্শের জন্য দল রয়েছে, সে দলে ভুক্ত নন, এমন মানুষদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে হবে মতাদর্শের আওতাধীন না থেকে।

এ কথায় একটা চটকদারি আছে, যা কোনও কোনও অভিজাত মহলে হাততালি পেতে পারে। কিন্তু এই ভাবনাপ্রণালী বা মতাদর্শটি, আসলে স্বার্থপরতার, আত্মকেন্দ্রিকতার, বিচ্ছিন্নতার মতাদর্শ। এবং কিঞ্চিৎ সুবিধাবাদেরও।

মানুষ গোষ্ঠীবদ্ধ জীব, এ কথাটা ক্রমশ ভুলিয়ে দেবার একটা চেষ্টা চলছে বহু কাল থেকে। গোষ্ঠীর সুবিধায় ব্যষ্টির অসুবিধা হতে পারে, যা সাময়িক, এবং একইসঙ্গে যা বৃহত্তর প্রেক্ষিতে ব্যক্তির পক্ষে সুবিধাজনকও হতে পারে, তেমনটা ভাবতে না দেওয়ার একটা সচেতন প্রক্রিয়া চালানো হতে থাকে।

ব্যক্তি মানুষ যে গোষ্ঠীর সঙ্গে থাকতে পারলেই তার পক্ষে মঙ্গলজনক, এবং গোষ্ঠীগত ভাবে মতাদর্শ থাকা, সে গোষ্ঠীর পক্ষে মঙ্গলদায়ক, এ কথা বুঝতে এবং তাকে তত্ত্বায়িত ও অনুশীলনযোগ্য করে তুলতে দীর্ঘ দিন অতিক্রান্ত হয়েছে।

হিন্দু-হিন্দি জাতীয়তাবাদ একটি মতাদর্শ। তাকে মতাদর্শ বলে না চিনে, যদি তাকে বিচ্ছিন্ন মানুষের অত্যাগ্রহ বলে ধরা হয়, তাহলে তাকে বাড়তে দিতে সুবিধা করে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে সত্যাগ্রহ, গান্ধীর পথ বলে পরিচিত করিয়ে দেওয়ার মধ্যে গান্ধীকে দেবতা বা অন্য কিছু বলে দাগিয়ে দেওয়া যায়, সে মতাদর্শকে তুচ্ছ করে দেওয়া সম্ভব হয় এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। বামপন্থার কথা ছেড়েই দেওয়া যাক।

স্রেফ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধও যে একটি ভাবধারা, যার প্রয়োজনীয়তা আজকের ভারতে কতটা জরুরি হয়ে উঠেছে তা ওই তালোজা জেলের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে, যেখানে গ্রেফতার হয়ে রয়েছেন দেশের বহু বুদ্ধিজীবী, শুধু সরকারের বিরোধিতা করার জন্য। তাঁদের মুক্তির দাবিত সোচ্চার হতে গেলে, মতাদর্শ প্রয়োজন।

বা অন্য দিক থেকে বললে, মতাদর্শ না থাকলে ওই মানুষগুলির মুক্তির দাবি তোলা যাব না। মতাদর্শ না থাকলে, লাল কেল্লায় কিসান ঝাণ্ডা উত্তোলনের পক্ষ নেওয়া যাবে না।

বিতর্ক ও প্রতর্ক চলমান। তা চলতে থাকবেও। মতাদর্শের সঙ্গে মতাদর্শের, এমনকি মতাদর্শের অভ্যন্তরেও। কিন্তু মতাদর্শবিহীন মানুষ, আগেও যা উল্লেখ করা হল, স্বার্থপর, আত্মকেন্দ্রিক, সুবিধাবাদী।

মতাদর্শের অর্থ হিসেবে যাঁরা অন্ধত্ব বোঝেন, তাঁদের এ কথা উপলব্ধিতে আসেনি।

আর উপলব্ধি অন্যতম মানবধর্ম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যাকে মানুষের ধর্ম বলতে চেয়েছেন।

মতাদর্শ, শেষত একটি মানবধর্ম।

Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

কৃষকের ট্র্যাক্টর মিছিল নিয়ে পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ : একজন কৃষকের মৃত্যু ,১৮জন পুলিশ আহত

Read Next

লড়াই শেষ চলে গেলেন প্রশান্ত ডোরা

Leave a comment

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.