Breaking News

কতটা ভয় পাব ?

তাপস দাশ

আমাদের কতটা ভয় পাওয়া উচিত, সে নিয়ে ঠিক স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যাচ্ছে না বলে কিঞ্চিৎ সংশয় বোধ করছি।

এই লেখার সময়কালে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে রাজদীপ সরদেশাই, বিনোদ কে জোস, মৃণাল পাণ্ডে, জাফর আগা, অনন্ত নাথ এবং প্রশান্ত নাথকে আপাতত গ্রেফতার করা যাবে না। কিন্তু সেটাই পুরো খবর নয়। সুপ্রিম কোর্ট এই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেন কোনও দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, সে ব্যাপারে অন্তর্বর্তী আবেদন মঞ্জুর করতে চায়নি।

এরপর আইনজীবী কপিল সিবাল বলেন, বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ এঁদের বাড়িতে হাজির হয়ে তাঁদর গ্রেফতার করতে পারে, এমন আশঙ্কা রয়েছে। এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বোবদে যখন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার কাছে জানতে চান, তখন মেহতা, ২৪ ঘন্টা সময় চান।

প্রধান বিচারপতি এর পর দু সপ্তাহ সময় দেন এবং এই সাংবাদিকদের এই সময়ের মধ্যে যাতে গ্রেফতার না করা হয়, সে ব্যাপারে আদেশ দেন।

এদিকে এদিনই সংবাদমাধ্যম নিউজক্লিকের দফতর ও ওই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজনের বাড়িতে পুলিশ হানা দেয় বলে জানা গিয়েছে। নিউজক্লিকের মালিক প্রবীর পুরকায়স্থ ও সম্পাদক পরঞ্জলের বাড়িতে পুলিশি হানার ঘটনা ঘটেছে বলে খবর।

 

৮ ফেব্রুয়ারি, কলকাতায় এক নাগরিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। একুশের ডাক, মানুষের দাবি নামের ওই সভায় একগুচ্ছ দাবিসনদ পেশ করা হয় মঞ্চের তরফে। এই মঞ্চে প্রায় কোনও রাজনৈতিক নেতারই দেখা মেলেনি, দীপংকর ভট্টাচার্য ছাড়া।

মঞ্চে দাবিসনদ পেশ করা হয়, তা ছাড়াও কেন্দ্রের শাসকদল যেভাবে এ রাজ্যে ক্ষমতা দখল করতে চাইছে, তাকে প্রতিহত করার আবেদন জানান হয়েছে।

৮ ফেব্রুয়ারির শহর কলকাতার নাগরিক কনভেনশন ও ৯ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে সুপ্রিম কোর্টের রায় ও সাংবাদিকের বাড়িতে ও সংবাদমাধ্যমের দফতরে পুলিশি হানার ঘটনা আপাত ভাবে বিচ্ছিন্ন। কিন্তু সে বিচ্ছিন্নতা আপাত মাত্র। দুটির কোনও ঘটনাই আপতিক নয়।

দিল্লিতে, গোদী মিডিয়া বহির্ভূত সংবাদমাধ্যম ও গেরুয়ালোকিত সাংবাদিকই শেষ সত্য হয়ে নেই। সে সব সংবাদমাধ্যমের ঠমক চমক কম হতে পারে, কিন্তু চাটুকারিতাবিহীন সংবাদমাধ্যমেরও গ্রাহক রয়েছে, এবং এ সংবাদমাধ্যমগুলিও মতামত তৈরি করতে সক্ষম।

গেরুয়াবাহিনী, এই সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে মরিয়া। যেন তেন প্রকারে। সে কারণেই, আমাদের মনে রাখতে হবে, খুন হয়ে যান গৌরী লঙ্কেশ। জেলে থাকেন গৌতম নওলাখা।

কেবল সংবাদ নয়, এই সংবাদমাধ্যমগুলি নিয়মিতভাবে প্রকাশ করে থাকে ভিন্ন মতের নিবন্ধসমূহ। নিউজক্লিকে, নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে পরঞ্জয় গুহঠাকুরতার নিবন্ধ, তাতে আদানিদের দুর্নীতি ফাঁস করা হয়েছে তথ্যপ্রমাণ সহযোগে। পরঞ্জয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। সম্প্রতি গুজরাটের এক আদালতে, তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদনও করা হয়েছে।

গেরুয়াবাহিনীর একটি পরিকল্পনা রয়েছে, এ দেশকে পাল্টে দেবার। দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও সংস্কৃতির পরিমণ্ডলকে পাল্টে দেবার।

সে পরিকল্পনা কার্যকর করতে, তারা যে কোনও পদক্ষেপ নিতে পারে। ছোটখাট দাঙ্গা, গুজব তৈরি থেকে শুরু করে মিথ্যা প্রচার, ভুয়ো খবর, এসবে তারা হাত পাকিয়েই রেখেছে। এবার তারা বড় পা ফেলছে। সে বড় পা ফেলারই চিহ্ন দেখা যাচ্ছে, সুধা ভরদ্বাজ, স্ট্যান স্বামীর মত ব্যক্তিত্বদের জেলে ভরে। সুধা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে নিপীড়িতদের আইনি সাহায্য দিতেন, স্ট্যান স্বামী আদিবাসীদের সাহায্য করতেন। এই সহায়তার হাতগুলিকে তারা গুঁড়িয়ে দিতে চায়।

ফলে, তালোজা জেলই ভারভারা রাওয়ের আস্তানা, অরুণ ফেরেরার বাসভূমি।

গেরুয়াবাহিনী, কার্যত যুদ্ধটাকে স্পষ্ট করে দিয়েছে। হয় তাদের পক্ষে, নয় তো তাদের বিপক্ষে। ফলে, এবার সারা দেশ জুড়েই একটা দ্বিমুখী লড়াইয়ের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।

এই প্রেক্ষিত থেকেই কলকাতার নাগরিক কনভেনশনকে দেখতে হবে। পল্লব কীর্তনীয়া, মৌসুমী ভৌমিক, কৌশিক সেন, মেরুনা মুর্মুরা এই যুদ্ধে পক্ষ বেছেছেন, পক্ষ বাছতে বাধ্য হয়েছেন। বাংলার পরিমণ্ডলকে তাঁরা দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডল থেকে পৃথক করে ভাবতে পারছেন না। একের বিরুদ্ধে এক যুদ্ধ তাঁরা পক্ষ নিচ্ছেন।

একের বিরুদ্ধে একের লড়াইয়ে ভয় পাওয়ার পরিবেশ থাকে, কিন্তু তখন ভাবার সময় আসে কতটা ভয় আমরা পেতে পারি? কতটা ভয় পাওয়া আমাদের মানায়?

Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

কংগ্রেস সহ বিরোধী এবং কৃষকদের বার্তা দিয়ে মোদী বললেন, মনমোহনের দেখানো পথেই সংস্কার

Read Next

ভারতে দ্রুতহারে কমছে কোভিড সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার

Leave a comment

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.