Breaking News

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উষ্মাপ্রকাশ করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার

he Chief Election Commissioner expressed his displeasure over the law and order situation in the state

ইস্টার্ন টাইমস , কলকাতা : ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে বুধবার রাতেই রাজ্যে এসে পৌঁছেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার সকালে প্রথমেই রাজ্যের পুলিশ নোডাল অফিসার তথা এডিজি আইনশৃঙ্খলা জ্ঞানবন্ত সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা।

আইনশৃঙ্খলা প্রশ্নে কোনওরকম আপোস করা হবে না৷ রাজ্যে এসেই পুলিশ- প্রশাসনকে বার্তা দিয়ে দিল কমিশনের ফুল বেঞ্চ৷ এ দিন সকাল সাড়ে ন’টায় প্রথমে রাজ্য পুলিশের এডিজি আইনশৃঙ্খলা জ্ঞানবন্ত সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসে তারা৷

নির্বাচনের অনেক আগে থেকে রাজ্যের বিরোধী দলগুলি শাসক দলের বিরুদ্ধে যেমন হিংসার আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে, তেমনই পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধেও শাসক দলের হয়ে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে৷ এই পরিপ্রেক্ষিতেই কমিশনের তরফে এ দিন রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তা জ্ঞানবন্ত সিংকে বার্তা দেওয়া হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে৷

এ বিষয়ে কোনও ধরনের শিথিলতা বরদাস্ত করবে না কমিশন৷ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উষ্মাপ্রকাশ করেন তিনি। ভোটের আগে বাংলায় শান্তি ফেরানোর উপযোগী পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল আরোরা।

এদিন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার-সহ কমিশনের ফুল বেঞ্চের।

সেই অনুযায়ী তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাক্ষাৎ করেন। কমিশনে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন পার্থ। কমিশন থেকে বেরনোর পর পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থা আছে। তবুও বেশ কিছু বিষয় আমরা আলোকপাত করেছি। যেগুলি অবিলম্বে আমরা সুরাহা চাই। সীমান্তে বিএসএফের যারা দায়িত্বে আছেন তারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে একটি বিশেষ দলকে সহায়তা করার জন্য ভয় দেখাচ্ছেন।

তারা বলছেন তোমরা যদি ভোট না দাও তাহলে কলকাতা বা জেলাশাসক ও তোমাদের ক্ষমতায় রাখতে পারবে না আমরাই সীমান্তে থাকব। এটা ভয়ংকর অভিযোগ। এটা একটা ভয়ংকর দিক। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করুক।’

এ বিষয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সেকথা কমিশনে জানান দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা-সহ বাংলাদেশের অনেক ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গায় অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছে ভোটারের সংখ্যা, এর সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা উচিত কমিশনের।’

বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ নস্যাৎ করেন। তাঁর দাবি, ‘বিএসএফ নিজের কাজ করছে। পুলিশ পক্ষপাতিত্ব করছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানিয়ে এসেছি কমিশনের কাছে।’

এ দিন রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকে শাসক দলের তরফে সুব্রত বক্সি, ফিরহাদ হাকিম, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, তাপস রায়রা উপস্থিত ছিলেন৷ পাশাপাশি বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএমের মতো বিরোধী দলগুলির প্রতিনিধিরাও নিজেদের বক্তব্য জানাতে হাজির হয়েছেন৷ প্রত্যাশিত ভাবেই শাসক দলের বিরুদ্ধে হিংসার অভিযোগেই কমিশনের সামনে সরব হন বিরোধীরা৷

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে কী ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছিল রাজ্যে, তারও উদাহরণ দেওয়া হয়৷ পুলিশ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও কমিশনের কাছে দরবার করেন বিরোধীরা৷

রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকের পরে এ দিনই সমস্ত জেলার পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসকদের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা কমিশনের৷ সবকটি পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনারদেরও বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা৷

Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

অধিকারের লক্ষে শুভেন্দু

Read Next

প্রধানমন্ত্রী ২৩শে জানুয়ারি আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ সফর করবেন

Leave a comment

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.