Breaking News

উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটিতে চারশো বছরের পুরানো সাবর্ণ রায়চৌধুরী বাড়ির দুর্গাপুজো

সুশোভন মুখোপাধ্যায়

দেখে এলাম বিরাটির সবচেয়ে প্রাচীন তো বটেই,সম্ভবত সারা বাংলার প্রাচীনতমদের মধ্যে অন্যতম একটি দুর্গাপুজো। সাবর্ণ রায়চৌধুরী শুনলেই মনে পড়ে বড়িশায় তাদের বাড়ির কথা। কিন্তু না,আমরা গিয়েছিলাম বিরাটির সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের বাড়ি। বিরাটি কলেজমোড়ের কাছেই, এই বাড়িটি চারশো বছরেরও বেশি পুরোনো।

ভাবছেন তো,বড়িশা থেকে তাঁরা আবার কীভাবে বিরাটিতে এলেন, তাও আবার চারশো বছরেরও আগে ! ইতিহাস বলে, আদতে এই রায়চৌধুরীরা বর্ধমানের লোক।তাঁদের একজন হুমায়নের সৈন্যবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।তাঁর বীরত্বের জন্য তিনি হুমায়ুনের কাছ থেকে প্রচুর অর্থলাভ করেন এবং বর্তমান হালিশহরে বিশাল প্রাসাদ নির্মাণ করেন। সেই প্রাসাদ অর্থাৎ হাভেলী থেকেই নাকি হালিশহর নামকরণ !

এই বংশের মূল পদবী গঙ্গোপাধ্যায়।লক্ষীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় নামে এই বংশের একজন জাহাঙ্গিরের সেনাপতি মানসিংহের কাছ থেকে হালিশহর থেকে ডায়মন্ড হারবার পর্যন্ত আটটি পরগণা নজরানা হিসেবে লাভ করেন এবং সম্মানস্বরূপ উপাধি পান-রায়চৌধুরী।তাঁদের গোত্র ছিল সাবর্ণ।

তাই পরবর্তীকালে তাঁরা সাবর্ণ রায়চৌধুরী হিসেবে পরিচিত হন।এই লক্ষীকান্ত রায়চৌধুরীর হাত ধরেই পুরোনো কলকাতার উন্নতি শুরু হয়।অবশ্য তাঁদের বংশধররা নানাভাগে ভাগ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে।

কলকাতাও পরিস্থতির চাপে ইংরেজদের হাতে চলে যায়।তবে কেন এবং কী ভাবে ইংরেজদের হাতে গেল কলকাতা, সে এক বিতর্কিত ইতিহাস ! কথা বলছিলাম বিরাটি সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের প্রবীণতম মানুষ শ্রী অক্ষয় কুমার রায়চৌধুরীর সঙ্গে,অষ্টমীর সন্ধ্যায়।তিনি বসেছিলেন ঠাকুর দালানের সামনেই,পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গেই।

তিনি জানান,তাঁদের পরিবারের এক অংশ যখন বড়িশায় বসতবাটি তৈরি করেন,তখনই অন্য একটি অংশ বিরাটিতে চলে আসে।পরে অবশ্য নিমতা,পানিহাটি,সোদপুরেও কিছু সদস্য চলে যায়,তবে তা অবশ্য ইদানিং কালের ঘটনা।

বিরাটির এই বাড়িটি চারশো বছরেরও বেশি পুরোনো।চারশো বছরের বেশী সময় ধরে এই বাড়িতে পুজো হয়ে আসছে। আজ অবধি কখনো ছেদ পড়েনি।পরিবারের সদস্যরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে গেলেও পুজোর সময় সবাই একত্রিত হয়।পুজোর তিনদিন ধরেই প্রায় সাড়ে তিনশো লোকের পাত পড়ে !

শুধুমাত্র করোনাজনিত কারণে এ বছরে উপস্থিতির হার অনেক কম।আগে পুজোয় পাঁঠাবলি হতো,সেই হাঁড়িকাঠ এখনো আছে,তবে সেখানে এখন চালকুমড়ো আর আখ বলি হয়, রক্তপাত বন্ধ।এই বাড়ির আরেকটা বৈশিষ্ট্য হলো,এখানে নবমীতে কুমারী পুজো হয়, অষ্টমীতে নয়।

যাই হোক্,ততক্ষণে সন্ধ্যারতি শুরু হয়ে গেছে,ঢাকের বাদ্যিতে কথা চাপা পড়ে যাচ্ছিল।তবু তার মধ্যেই আশি পার করা ভদ্রলোক বলছিলেন তাঁর ছোটবেলার কথা।চারদিকে তখন ছিল জঙ্গলাকীর্ণ,বন্য পশুর ভয়।তবু তার মধ্য দিয়েই হেঁটে স্কুলে যাওয়া ! যেতেন এয়ারপোর্টের কাছে কাদিহাটিতে।আর বিকাল চারটের পর বাড়ির বাইরে আর বেরোনো যেত না।

 

অক্ষয় কুমার রায়চৌধুরী
অক্ষয় কুমার রায়চৌধুরী

তাঁর কথা শুনতে শুনতে ভাবছিলাম,সবকিছু কতো পাল্টে গেছে, বিরাটি এখন ছোটখাটো হলেও জমজমাট শহর।অথচ সাবর্ণ রায়চৌধুরী বাড়ির পুজো চারশো বছর ধরেই অবিচ্ছিন্নভাবে চলে আসছে !এক বিরাট ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই পুজো,এই বাড়ি !

শুধু বাড়িটির দৈন্যদশা দেখে দুঃখ হচ্ছিল।বাড়িটির গায়ে এত গাছ গজিয়ে গেছে, যা ঐতিহাসিক বাড়িটির ধ্বংসপ্রাপ্তিকে দ্রুত ডেকে আনবে। উত্তর দমদম পৌরসভা বাড়িটির সংস্কার করতে এগিয়ে এলে এটি রক্ষা পায়।

এতো কিছু পাল্টে গেলেও চারশো বছরের এই সাবেকী দুর্গাপুজো, এই বাড়ি, এ টুকুই তো ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের মধ্যে !

Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

এল ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হার বার্সেলোনার

Read Next

আমরা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মূল্যবোধ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : তারেক রহমান

Leave a comment

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.