Breaking News

দিলীপ ঘোষের অসত্য ও কাজী নজরুলের কবিতা

Dilip Ghosh's untruth and Kazi Nazrul's poem

তাপস দাশ

দিলীপ ঘোষের মিথ্যে ফের প্রকাশিত হয়ে পড়েছে। কয়েক দিন আগে দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, জয় বাংলা স্লোগান আসলে ইসলামিক দেশ বাংলাদেশের স্লোগান।

কথাটা মিথ্যে।
জয় বাংলার পূর্ণচন্দ্র
জয় যুগে-যুগে-আসা-সেনাপতি, জয় প্রাণ আদি অন্তহীন
স্বাগত ফরিদপুরের ফরিদ, মাদারীপুরের মর্দবীর,
বাংলা-মায়ের বুকের মানিক, মিলন পদ্মা ভাগীরথীর

এটা নজরুল ইসলামের কবিতা। কাজী নজরুল ইসলাম। ১৯২২ সালে লেখা। এই কবিতা থেকেই জয় বাংলা স্লোগান অনুপ্রাণিত। অনস্বীকার্য যে পূর্ব বাংলায় খান সেনাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার লড়াইয়ে স্বাধীনতাকামীরা জয় বাংলা স্লোগান বুকে তুলে নিয়েছিলেন। অনস্বীকার্য যের্তমান বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান জয় বাংলা।

কিন্তু সে তো বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিরচিত, যেমতি এ দেশের।

ঘটনা এও যে, এ দেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে রবীন্দ্রনাথের জনগণমন মেনেনেওয়ার ক্ষেত্রে গেরুয়া বাহিনীর অসুবিধা রয়েছে। বারংবার তাদের সেআপত্তির কথা সামনে চলেও এসেছে। বার বার তা ঢাকা চাপা দেওয়ার চেষ্টাওহয়েছে। অতি সম্প্রতি আরএসএস-এর প্রাক্তন সংগঠক, প্রবাসী বাঙালি পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বহুল প্রচারিত সাক্ষাৎকারে রবীন্দ্রনাথসহ বাংলার মণীষীদের সম্পর্কে গেরুয়াবাহিনীর মনোভাবের কথা ফাঁস করেছেন।

বিজেপির প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায় তার বিরোধিতা করায়, পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় তার প্রত্যুত্তরও দিয়েছেন।

সংস্কৃতিগত ভাবে দিলীপ ঘোষরা যে প্রচার করে আসছেন, তার মূল সুরটি বোঝা দরকার। তাদের অখণ্ড ভারতভূমির কল্পনায়, বর্তমান বাংলাদেশ একটি ইসলামিক রাষ্ট্রমাত্র, তার অতিরিক্ত কিছু নয়। বাঙালিদের নিজস্ব ভূমি তৈরি হওয়া বা ২১ ফে্ব্রুয়ারি, এসবের সঙ্গে হিন্দু হিন্দি জাতীয়তাবাদী ভাবাদর্শের ন্যূনতম যোগাযোগ নেই। যার সঙ্গে এর অন্তিম যোগাযোগ, সেকথায় শেষে আসা যাবে। তার আগে কয়েকটা তথ্য স্পষ্ট করা দরকার।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযোদ্ধারা জয় বাংলা স্লোগানকে আত্মস্থ করেছিলেন, সে কথা আগেই উল্লেখ করেছি।

১৯৭২ সালে এ স্লোগান স্বাধীন বাংলাদেশে কাজী নজরুল ইসলাম জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষিত হন। কিন্তু এর আগের একটু ইতিহাস জানা প্রয়োজন। পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের যখন দ্বন্দ্ব চলছে, একই দেশের মধ্যেই, সে দ্বন্দ্বেরকারণ মূলত ছিল ভাষিক। সেই ভাষিক দ্বন্দ্বের প্রেক্ষিত থেকে ১৯৬৯ সালে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের তরফে ১১ দফা দাবিসনদ পেশ করা হয়।

সে দাবিসনদে পূর্বপাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবি ছিল মুখ্য। সেখানেই ওঠে, ‘তোমার দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ স্লোগান এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। তবে জয় বাংলা স্লোগানের যাত্রাপথ, বাংলাদেশেও তত মসৃণ ছিল না। ১৯৭৫ সালে মুজিব হত্যার পর, খোন্দকার মোস্তাক আহমেদ যখন নিজেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ঘোষণা করেন, তখন তিনি বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান করে দেন ‘জয় বাংলাদেশ’।

২০১৭ সালে বাংলাদেশ হাইকোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করা হয়, যাতে ‘জয় বাংলা’কে সে দেশের জাতীয় স্লোগান হিসেবে পুনর্ঘোষণার আবেদন করা হয়।

আবেদনে বলা হয়, “জয় বাংলা আমাদের স্বাধীনতা ও ঐক্যের স্লোগান ছিল। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছেও তা জাতীয় স্লোগান হিসেবে রক্ষিত হওয়া উচিত।”

২০২০ সালের মার্চ মাসে ‘জয় বাংলা’কে বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করে বাংলাদেশ হাইকোর্ট। দিলীপ ঘোষেদের এসব জানার কথা নয়, বা জানলেও, কেবল তথ্য হিসেবে জানার কথা। উপলব্ধিতে আসার নয়। যে বাঙালি বাংলার চেয়ে হিন্দি ভাষাকে বেশি আপন বলে মনে করে, তার পক্ষে এসবের মর্মোদ্ধার সম্ভব নাও হতে পারে।

কথাটা একটু বাড়াবাড়ি শোনাতে পারে, তবে অসত্য যে নয়, তা বোঝা যায়, তথাগত রায়ের বক্তব্য শুনলে। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে আরএসএসের মনোভাব সম্পর্কে পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য খণ্ডন করতে গিয়ে বলেছেন, আর এস এস রবীন্দ্র-বিরোধী এটা একদম বাজে কথা। বাস্তবে সাহিত্য নিয়ে আর এস এস মাথাই ঘামায় না।

যদি তথাগতের কথা সত্য হয়, তাহলে নজরুল, তাঁর কবিতার ইতিহাস, এসব নিয়ে দিলীপ ঘোষের না জানারই কথা। কিন্তু তার চেয়েও বড় সত্যিটা উল্লেখ করে ফেলা যাক। গান্ধী হত্যাকারী নাথুরাম গডসে ফাঁসিকাঠে চড়ার সময়ে নাকি আরএসএস-এর প্রার্থনা ‘নমস্তে

সদাবৎসলে মাতৃভূমে’ আবৃত্তি করেছিলেন। সংস্কৃতির কথা বলে শেষ করব বলেছিলাম। এই সেই সংস্কৃতি।

Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

কৃষক আন্দোলন নিয়ে আলোচনার দাবি , প্রতিবাদে রাজ্যসভায় বিরোধীদের ওয়াক আউট

Read Next

কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে সাধারণ মানুষকে দিল্লি যাওয়ার ডাক দিলেন কৃষক নেতারা

Leave a comment

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.