Breaking News

লোকাল ট্রেন চালু করার দাবি জোরদার হচ্ছে

পারিজাত সেনগুপ্ত
সরলা মাসিকে লকডাউনের পর থেকে আর কেউ দেখে নি।প্রত্যেকদিন সকালবেলায়  পুরুলিয়া জেলার মুরারডি থেকে তিনি দামোদর নদী পেরিয়ে পশ্চিম বর্ধমানের শিল্প শহর বার্নপুরের ডেলি মার্কেটে সবজি বিক্রি করতে অাসতেন।কিন্তু লোকাল ট্রেন বন্ধের কারণে সরলা মাসি ও তার মত অনেকেই আজ আসতে পারছেন না।কিভাবে বেঁচে আছেন তারা, কোন খবর নেই কারোর কাছে।
রেল কামরায় ২৫ বছর ধরে হকারি করা দিব্যেন্দু চক্রবর্তী কিন্তু সংসার চালাতে কোনরকমে লড়াই টা জারি রেখেছেন।শিয়ালদহ থেকে যে গাড়িগুলো কৃষ্ণনগরের দিকে যায় সেখানে এতোদিন বাদাম,নিমকি,ভুজিয়া বিক্রি করতেন তিনি।বৌ- ছেলে নিয়ে তার ছোট্ট সংসার কোনভাবে চলে যেত কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকার কারণে অকূল পাথারে পড়েছেন তিনি।বেঁচে থাকার জন্য সাইকেলে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন পাড়ায় তিনি এখন ভুজিয়া বিক্রি করেন।রেলগাড়িতে খুব ভালো বিক্রি হলে ৪০০-৪৫০ টাকা, আর খুব খারাপ হলে ২০০-২৫০ টাকা।
আর এখন সাইকেলে করে সকালে আর বিকেলে বেড়িয়ে ১০০ টাকা আয় করাই কঠিন হয়ে দাড়াঁচ্ছে।দিব্যেন্দুর কথায় করোনায় বেঁচে গেলেও অনাহারে মৃত্যু নিশ্চিত।
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার জয়নগর ব্লকের গোচারণ গ্রামের সমীর ঘোষের কাহিনী আরো মর্মান্তিক। কলকাতা শহরে সাউথ সিটিতে কাজ করতেন সমীরবাবু,মাস গেলে কেটেকুটে জুটতো ৮ হাজার টাকা।রেল বন্ধ, সড়কপথে একদিনে যাতায়াতের খরচ নিদেনপক্ষে ১২৫ টাকা,তাও বাস অমিল।ফলে আজ আর চাকরি নেই তার।সমীরবাবুর দাদার স্টেশনের পাশে এজটা মিষ্টির দোকান,ট্রেন না থাকার কারণে তার হালও সঙ্গীন।
সুব্রত দাসকে কিন্তু যে করেই হোক কলকাতার কলেজ স্ট্রিটে পৌঁছতে হবে।প্রগতিশীল বইপত্র বিক্রি তার জীবিকা, ইদানীং একটা ছোট প্রকাশনা সংস্থাও খুলেছেন তিনি।কিন্তু লকডাউন পরিস্থিতিতে কাজের যে ক্ষতি হয়েছে, আনলক পর্বেও তার খুব একটা উন্নতি হয় নি। কারণ টা খুব সহজ। এতদিন হালিশহর থেকে শিয়ালদহ ১৮৫ টাকার মান্থলি কেটে সারা মাস যাতায়াত চলত।এখন একদিন আসা-যাওয়ার খরচ ১০০ টাকা।
দেড় ঘন্টা লাগতো ট্রেনে গেলে এখন জ্যাম না থাকলেও সাড়ে তিন ঘন্টা। ফলে কলেজ স্ট্রিটের কাজ অসমাপ্ত রেখে ফিরতে হচ্ছে তাকে।সুব্রতর প্রশ্ন একদিকে অফিস কাছারি খুলে দেওয়া হল অন্য দিকে করোনা সংক্রমণের দোহাই দিয়ে লোকাল ট্রেন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে লোকেরা বাদুড় ঝোলা হয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এতেতো সংক্রমণ আরো বাড়বে।
 Demands for launching local trains are getting stronger
আসলে লোকাল ট্রেন বন্ধ কেন তার কোন যুক্তি গ্রাহ্য ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।আনলক পর্বে ধীরে ধীরে খুলে দেওয়া হয়েছে অফিস, আদালত, বাস,ট্রাম,ট্যাক্সি।দেখা যাচ্ছে সড়ক পরিবহনে বাস্তবত সামাজিক দূরত্ব বিধি মানার বালাই নেই। বিনোদনের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে শপিং মল,মাল্টিপ্লেক্স, হোটেল,বার,জিম।সরকারের পক্ষ থেকে দুর্গাপূজার অনুমতিও মিলেছে। রেলও কিন্তু বন্ধ নেই।
যতদিন যাচ্ছে স্পেশাল ট্রেনের সংখ্যা বাড়ছে,দিতে হচ্ছে বেশি ভাড়া।কলকাতায় মেট্রোরেল পর্যন্ত খোলা, অথচ লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন জীবিকা যার উপরে নির্ভরশীল সেই লোকাল ট্রেন বন্ধ।
এই প্রশ্ন গুলিকে সামনে রেখে, মানুষের স্বার্থে সরব হয়েছে রাজ্যের প্রমুখ মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর।পূজোর আগে দশটি সভা করে ফেলেছেন তারা,মানুষের সাড়াও পাচ্ছেন।
এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ আলতাফ আহমেদ  জানালেন দুটো ট্রেনের কথা।যে দুটি ট্রেনে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মেয়েরা আসেন কলকাতা শহরে গৃহ পরিচারিকার কাজ করতে।
ট্রেন না থাকার ফলে এই শ্রমজীবী গরীব মহিলারা আজ বিপন্ন। আলতাফ বাবুর হিসাব অনুযায়ী সারা দেশে কয়েক কোটি মানুষ রেলে হকারির সঙ্গে যুক্ত। আজ তাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। সম্প্রতি মানুষের বিপন্নতার প্রকাশও দেখা গেছে যখন সাধারণ মানুষ জোর করে স্পেশাল স্টাফ ট্রেনে উঠতে গিয়ে রেল পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে।
একথা ঠিক যে লোকাল ট্রেন চালানোর দাবি জোরদার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের তরফে নড়াচড়া শুরু হয়েছে। কিন্তু সেখানেও শঙ্কা লুকিয়ে আছে।
নিউ নর্মালের দোহাই দিয়ে হকারদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হবে না তো! মেট্রোরেলে নানান নিয়মের বাঁধনে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা হচ্ছে এখানেও সেরকম কিছু হবে না তো! ইতিমধ্যে শহরতলির বিভিন্ন স্টেশনে মূল প্রবেশপথ ছাড়া অন্য গুলির বন্ধ করার কাজ হচ্ছে,যা নিয়ে সাধারণ যাত্রী দের মধ্যে জল্পনা বেড়েছে। তবে যাত্রী ও অর্থনীতির স্বার্থে লোকাল ট্রেন যে চালাতে হবে, এই কথার পক্ষে সমর্থন কিন্তু বাড়ছেই।
Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

প্রশাসনের কড়া বিধিনিষেধে ম্লান বরাকে পুজো

Read Next

‘মেঘালয়ের বাঙালিরা বাংলাদেশী’ খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের পোস্টারে নিরাপত্তাহীনতায় বাঙালিরা

Leave a comment

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.