Breaking News

দিলীপ ঘোষ ও অমর্ত্য সেনের কোর কম্পিটেন্স

Core Competition of Dilip Ghosh and Amartya Sen

তাপস দাশ

ইংরেজিতে কোর কম্পিটেন্স (core competence) বলে একটা কথা আছে। যার বাংলা হতে পারে অন্তর্গত বা মূল দক্ষতা। মঙ্গলবার বারবেলা শুরু হবার আগেই তেমন দক্ষতার উদাহরণ তৈরি হল, কলকাতার উপকণ্ঠে, ইকো পার্কে। বিজেপি রাজ্য সভাপতি ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে যান। ফলে, তাঁর সঙ্গ নেন সাংবাদিককুলও। কোনও কোট বা বাইটের আশায়।

মঙ্গলবার তাঁদের নিরাশ করেননি দিলীপ। বলেছেন অমর্ত্য সেন সম্পর্কে। বলেছেন, অমর্ত্য সেন তিনবার তিন ধর্মে বিবাহ করেছেন। এবং বলেছেন অমর্ত্য সেন দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন। এবং বলেছেন অমর্ত্য সেনের কথা যাঁরা শুনেছেন, তাঁরা ডুবেছেন।

দিলীপ ঘোষ তাঁর কোর কম্পিটেন্স, বা যেখানে তাঁর মূলগত দক্ষতা, সেখান থেকেই শুরু করেছেন। তিনি গরুর কুঁজে সোনার সন্ধান পান।

ফলে তিনি অমর্ত্য সেনের বিবাহসংখ্যা ও সেসব বিয়ের কনেরা কোন ধর্মের, এসব নিয়ে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন, তেমনটাই স্বাভাবিক। খুবই স্বাভাবিক যে তিনি অমর্ত্য সেনের কাজকর্ম সম্পর্কে জানবেন না, এবং তা নিয়ে কথা বলার অধিকারী তিনি নন।

দিলীপ ঘোষ অমর্ত্য সেনের নাম জানেন, এই কি অনেক নয়? দিলীপ ঘোষের সঙ্গে অমর্ত্য সেনের একমাত্র মিল বাংলা ভাষা। অমর্ত্য বাংলা ভাষী, দিলীপও। কিন্তু সমস্যা হল, দিলীপ ঘোষ বাংলায় থেকেও বাংলাটা ঠিকমত বলতে পারেন না, অমর্ত্য বিদেশে থেকেও বাংলা বলতে পারেন স্পষ্ট, নির্ভুল।

বাম-কংগ্রেস ভোটের জোট : ইতিহাস ও ভূগোল: তাপস দাশ  >>

ফলে বাংলা নয়, বাংলা নিয়ে নয়, দিলীপ যা পারেন, তাই করেছেন, বিয়ে ও ধর্ম নিয়ে বলেছেন। কিন্তু দিলীপ জানেন, তিনি কী পারেন। সেটাই দিলীপ ঘোষের শক্তি।

দিলীপ ঘোষ, দেখা যাবে সংবাদমাধ্যমে যতবার প্রথম দিকে এসেছেন, তার অধিকাংশই কুকথা বলার জেরে। বা তাঁর আয়ত্তের বাইরের বিষয় নিয়ে মন্তব্য করে। এর ফলে তিনি হাসির খোরাক হয়েছেন, বা হননি, তা তাঁর বিচার্য নয়। দিলীপ, বাংলার রাজ্য সভাপতির পদটি ধরে রাখার জন্য যা করার তা-ই করেছেন। বিতর্কিত মন্তব্য, বেফাঁস মন্তব্য, এসবই দিলীপের সচেতন পদক্ষেপ।

দিলীপ যে সনাতন ধর্মের পূজারী হিসেবে এই সব বলার সুযোগ পাচ্ছেন, সে ধর্ম নিয়ে তাঁর পড়াশোনা ওই পলিটেকনিকের মতই।

তাঁর পক্ষে জানা সম্ভব নয় যে, অমর্ত্য সেন মাধবাচার্য্য নামক এক প্রাচ্য দার্শনিককে অতি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। অমর্ত্য সেন নিজেই জানিয়েছেন যে তিনি নাস্তিক্যবাদী, এবং সে প্রসঙ্গেই তিনি বলেছিলেন, ভারতকে যেভাবে আস্তিকতার আখড়া হিসেবে গণ্য করা হয়, তেমন নয়, মাধবাচার্য্যের মত পণ্ডিতেরা সংস্কৃতভাষায় নাস্তিক্যবাদের চর্চা করেছেন।

দিলীপ ঘোষের পক্ষে এ কথা জানা সম্ভব নয়, কারণ তা তাঁর মূলগত কেন, কোনও ধরনের দক্ষতার সঙ্গেই সাযুজ্যপূর্ণ নয়।

দিলীপ ঘোষ ও তাঁর দল ঘৃণার চর্চা করে এ কথা বহুবার বলা হয়ে গিয়েছে। দিলীপ ঘোষদের দল নেতিবাচকতার চর্চা করে, এ কথা বলার সময় এসেছে। এবং তারা মিথ্যাবাদী, এবং অর্ধসত্যের উপাসক।

সনাতন ভারত মানে হিন্দুত্ববাদী ভারত, প্রাচ্য দর্শন ও মননচর্চায় বিন্দুমাত্র আগ্রহী যে কেউ জানেন এর চেয়ে বড় মিথ্যা হয় না। দিলীপ ঘোষ আরএসএস থেকে উঠে আসা।

যে সংঘের গোটা দর্শন ধারণাই ভারত তথা প্রাচ্য সম্পর্কে অর্ধসত্যাবলম্বী। পুরনো ও বর্তমান মানচিত্র ধরে ধরে দেখানো সম্ভব যে প্রাচ্যে জ্ঞান ও মতবিনিময়ের যে পরিসর ছিল, তা বর্তমানে সারা বিশ্বে দুর্লভ।

আধুনিক বিশ্বের যে মূল সমস্যা, দারিদ্র্য, তা নিয়ে অমর্ত্য সেনের চর্চা ও ভাবনা রয়েছে, রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়েও। আরএসএসের শাখায় শাখায় লাফ দিয়ে ঘুরে বেড়ালে, সে চর্চার ধারেপাশে আসা সম্ভব হয় না।

সংঘ তা চায়ও না। সংঘের কাজ, নেতিবাচকতার পরিসর উন্মোচন করা, ঘৃণার বীজ বপন করা। দিলীপ ঘোষ সেই বীজেরই ফসল।

বৃহৎ কোনও পরিসর থেকে দেখার চেষ্টা করলে, এ ধরনের মানুষদের প্রতি করুণাঘন এক মনোভাব তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। আহা, ওকে ক্ষমা করে দাও প্রভু, ও জানেও না ও কী বলছে।

 

Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপির ৬বারের সাংসদের দলত্যাগ

Read Next

বোলপুরে চার কিলোমিটার দীর্ঘ রোড-শো করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

Leave a comment

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.