Breaking News

বিহার ভোট : ঘরে বাইরে সমালোচনায় জেরবার কংগ্রেস

ইস্টার্ন টাইমস ,নয়াদিল্লি: সোমবার পাটনায় জেডিইউ সুপ্রিমো নীতিশ কুমার যখন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিচ্ছিলেন ,তখন বিরোধী মহাজোটে চলছিল তীব্র শরিকী লড়াই। এবং শুধু শরিকী লড়াই নয় ,মহাজোটের অন্যতম দল কংগ্রেসের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব আবার প্রকাশ্যে এসে গেছে বিহার নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে।

শরিকী লড়াই ও কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের উপলক্ষ ও নিশানার মধ্যে যোগসূত্রতা লক্ষ্যণীয়।উপলক্ষ বিহার বিধানসভার সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনী ফলাফল ,সোনিয়া-রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব।

মহাজোটের প্রধান দল আরজেডি’র প্রবীণ নেতা শিবানন্দ তেওয়ারি রাজ্যে সরকার গঠন করতে না পারার কারণ হিসাবে কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে মন্তব্য করেছেন ,’যখন নির্বাচন হচ্ছে, রাহুল গান্ধী তখন সিমলায় প্রিয়ঙ্কার বাড়িতে পিকনিক করছেন!’

আবার কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা কপিল সিবাল বলেছেন ,’যে সব রাজ্যে বিকল্প হিসেবে মানুষ আমাদের চাইছেন, আমরা তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি।’ কংগ্রেসের মধ্যে বিকল্প নেতৃত্বের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বিহার নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট পেয়েছে ১২৫টি আসন।আরজেডি নেতৃত্বাধীন মহাজোট ১১০টি। তার মধ্যে কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ১৯টি।শিবানন্দ তিওয়ারির অভিযোগ, “একটা দল চালাতে গেলে অনেক দায়িত্ব নিতে হয়। কিন্তু বিহার নির্বাচনে যে ভূমিকায় রাহুল গান্ধীকে দেখা গেল, তা মোটেই কাম্য ছিলোনা।

এ ভাবে কি কোনও জোট চালানো সম্ভব? আমরা ৭৫টি আসন পেয়ে প্রথম দল হিসেবে উঠে আসলাম। তার পরই ৭৪টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিজেপি। বামেরাও আগের বারের ৩টি থেকে আসন বাড়িয়ে পৌঁছে গিয়েছে ১৬-তে। কংগ্রেস যদি এই নির্বাচনে আরও গুরুত্ব দিয়ে লড়াই করত, তা হলে আজ বিহারে মহাজোটেরই সরকার হত।”

শিবানন্দ তিওয়ারির অভিযোগ, বিহারে ৭০ জন প্রার্থী দিয়েছে কংগ্রেস। অথচ ৭০টি জনসভাও করেনি তারা। রাহুল গান্ধী মাত্র ৩ দিন এসেছিলেন ভোট প্রচারে।

প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা তো আসেনইনি। অথচ এই রাজ্যের সঙ্গে যাঁরা পরিচিত নন, তাঁদেরই পাঠিয়ে দিয়ে দায়সারা কাজ করেছে কংগ্রেস। এটা করা উচিত হয়নি কংগ্রেসের।”

শরিক আরজেডির সমালোচনায় বিব্রত কংগ্রেস নেতৃত্বের বিড়ম্বনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন দলের রাজ্যসভা সদস্য কপিল সিবাল। দলে আগাপাশতলা সংস্কারের পক্ষে সওয়াল করার পাশাপাশি শীর্ষ নেতৃত্বে বদলের দাবি ফের তুলেছেন এই বর্ষীয়ান আইনজীবী নেতা। দলীয় সংগঠনের পুনর্মূল্যায়ন, অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা, শীর্ষ নেতৃত্বের মনোভাব বদলের মতো একাধিক দাবি তুলে সরব সিবাল। কাঠগড়ায় তুলেছেন নেতৃত্বের গা ছাড়া মনোভাবকেও।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সিবালের নিশানায় মূলত গান্ধী পরিবার। নেতৃত্বের গা ছাড়া মনোভাবের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন , ‘‘দলের মধ্যে এমন একটা মনোভাব, যেন কিছুই হয়নি।’’ সিবাল বলেছেন , ‘সাংগঠনিক, সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলা, যাঁদের কথা মানুষ শুনতে চায়, তাঁদের তুলে আনা, সক্রিয় নেতাদের কাজে লাগানোর মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের নানা সংস্কারের কাজ করতে হবে।’

একাধিক রাজ্যের উপনির্বাচনেও আশানুরূপ ফল নেই কংগ্রেসের।

এ নিয়ে মুখ খুলে বলেন,’যে সব রাজ্যে বিকল্প হিসেবে মানুষ আমাদের চাইছেন, আমরা তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি।’ তিনি বলেন,”অন্তর্তদন্ত, আলোচনা-পর্যালোচনার আর কোনও জায়গা নেই। কংগ্রেসকে সাহসী হতে হবে।”

উল্লেখ্য ,গত আগস্টে কপিল সিবাল , শশী থারুর , গুলাম নবি আজাদের মতো নেতারা দলকে চিঠি লিখে এক গুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

শীর্ষ নেতৃত্বে রদবদল, দলকে নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা করার মতো নানা পরামর্শ ছিল সেই চিঠিতে। সেই সময় আবার সিবালের সঙ্গে বিজেপির ‘সখ্য’ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল।

সেই সম্ভাবনা আগেও উড়িয়ে দিয়েছেন বর্ষীয়ান সাংসদ। তা হলে দলের মধ্যে থেকেও সমালোচনা কেন? সি

Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

বাংলাদেশের ডলুবাড়ির ত্রিপুরীরা জমি হারানোর আতংকে দিশাহারা

Read Next

কেমন যাবে আপনার আজকের দিনটি : দৈনিক রাশিফল

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.