Breaking News

কৃষক আন্দোলনের সংহতিতে প্রতীকী অনশনে শামিল ভীমা কোরেগাঁও মামলায় আটকরা

Bhima Koregaon arrested in symbolic hunger strike in solidarity with farmers

ইস্টার্ন টাইমস ,কলকাতা: ২৩ ডিসেম্বর কৃষক দিবস। ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চৌধরি চরণ সিংয়ের জন্মদিবসকে ভারতে কৃষক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। চরণ সিং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বল্পকাল কাটিয়েছেন, তাঁর মূল পরিচয় কৃষকবান্ধব হিসেবে। কৃষি ও কৃষকের পক্ষে মঙ্গলজনক বেশ কিছু আইন পাশ হয়েছিল তাঁরই জন্য।

উত্তরপ্রদেশে জমিদারি বিলোপ আইন পাশ হয়েছিল তাঁরই উদ্যোগে, ১৯৫২ সালে। চরণ সিং মনে করতেন, প্রকৃত ভারত রয়েছে গ্রামে।

২০২০ সালের এই দিনটিতে তালোজা জেলে বন্দি আন্দোলনরত কৃষকদের সমর্থনে এক দিনের প্রতীকী ধর্মঘটে অংশ নিচ্ছেন। এলগার পরিষদ- ভীমা কোরেগাঁও মামলায় আটক সমাজকর্মীরা আইনজীবী নিহালসিং রাঠোরের মাধ্যমে কৃষকদের সমর্থন জানিয়ে নিম্নলিখিত বার্তাটি প্রচারের জন্য দিয়েছেন।

মহেশ রাউত, সুধীর ধাওয়ালে, সুরেন্দ্র গ্যাডলিং, আনন্দ তেলটুম্বড়ে, রোনা উইলসন, হানি বাবু, সাগর গোরখে, রমেশ গাইচোর, অরুন ফেরেরা, ভার্নন গনজালভেজ, ফাদার স্ট্যান স্বামী ও গৌতম নওলাখা’র ওই বার্তাটি আমরা সম্পূর্ণটাই এখানে প্রকাশ করলাম।

বার্তা : শুরুতেই আমরা এই আন্দোলন চলাকালীন যেসব কৃষক শহিদ হয়েছেন, তাঁদের শ্রদ্ধা জানাই। আমরা নিশ্চিতভাবেই জানি, তাঁদের শাহাদাত এই আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী, আরও নির্ণায়ক করে তুলবে।

আমরা জেলবন্দি থাকার কারণে আন্দোলনে শারীরিকভাবে যোগ দিতে পারছি না।

এ অবস্থায় আমরা একদিনের প্রতীকী অনশন ধর্মঘট করছি। আপনারা যে দাবি তুলেছেন তা সঠিক ও ন্যায়সংগত। কেন্দ্রীয় সরকার ঘৃণ্য এক চক্রান্ত করেছে যাতে কৃষকরা কর্পোরেট দৈত্যদের দাসে পরিণত হন। সে কারণেই এই জনবিরোধী আইন পাশ করা হয়েছে। তারা চাইছে এই আইনের মাধ্যমে কৃষকদের জমি কেড়ে নিতে, যাতে আদানি-আম্বানিরা তাঁদের মালিক হয়ে ওঠেন।

এ দেশের সমাজে কৃষকদের শ্রদ্ধেয় ভূমিকা রয়েছে।

এই চক্রান্ত দূরদর্শিতার সঙ্গে দেখতে পেয়ে আপনরা যে গণআন্দোলন শুরু করেছেন, তা কেবল ঐতিহাসিক নয়, বল্গাহীন সরকারের চেতনা ফেরাতেও তা সহায়ক ভূমিকা নিচ্ছে।

বর্তমান সরকারের আদত সঞ্চালক যে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ, তারা পত্তনের সময় থেকেই গণতন্ত্রবিরোধী। ঐক্য, সৌভ্রাতৃত্ব, সমতা, এসবকে তারা অপছন্দ করে, কারণ এসব বৈশিষ্ট্য তাদের নিজস্ব যে জাতিগত কার্যক্রম, তার পক্ষে পীড়াদায়ক। কেউ যদি সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতির কথা তাদের মনে করিয়ে দেয়, তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তাদের সামনে একটাই পথ খোলা থাকে, যারা গণতন্ত্রকামী, তাদের সুনাম ক্ষুণ্ণ করা, যাতে জনগণের মধ্যে সংশয়ের বাতাবরণ তৈরি করা সম্ভব হয়।

সেই ন্যক্কারজনক প্রক্রিয়ারই জেরে তারা মানুষকে সন্ত্রাসবাদী, বিশ্বাসঘাতক, দালাল ইত্যাদি বিশেষণ দেয়। গত ৬-৭ বছর ধরে তারা সাফল্যের সঙ্গে এ কাজ করে এসেছে।

এর ফলে যাঁরা তাদের সামনে আয়না ধরেছিলেন, এমন বহু সমাজকর্মীকে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছেন।

আমরা বুঝতে পারছি তারা ভয়ে কাঁপছে, পরাজয়ের ভয়ে। এরকম এক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আপনাদের এই আন্দোলন শুধু উৎসাহব্যঞ্জক নয়, আগামীর মশালবাহকও।

আপনারা সংঘ, মোদী সরকার, তাদের মন্ত্রী ও তাদের গোদি মিডিয়ার উদ্দেশ্য পরাজিত করেছেন এবং তাদের চক্রান্ত মানুষের সামনে ফাঁস করে দিয়েছেন।

গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ ও সরকার, উভয়েই যে পুঁজিবাদীদের সেবা করছে, সে কথা প্রকাশ্যে এসে গিয়েছে। জনগণের প্রতি তাদের দায় তারা পালন করছে না। কৃষকদের সঙ্গে কিছু আলোচনা সত্ত্বেও, ভয়ানক শীতের মধ্যে গায়ে জল ঢেলে দিয়ে কৃষকদের উপর আক্রমণ করার পর ধর্মের ভিত্তিতে তাঁদের মধ্যে ভাঙন ধরানোর চেষ্টাও করেছে তারা।

দেশের মানুষের রক্ত ও ঘামে গড়ে ওঠা সরকারি সংস্থাগুলি পুঁজিবাদীদের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

একদিকে পুঁজিবাদীদের ঋণ, কর মকুব করে দেওয়া হচ্ছে আর অন্যদিকে সাধারণ মানুষের উপর করভার চাপান হচ্ছে। সারা দুনিয়া যখন কোভিড-১৯-এ ভুগছে, তখন এই শাসকরাই শ্রমিকদের হাজার হাজার কিলোমিটার পথ হাঁটতে বাধ্য করেছে, আর সেই সময়েই উপায় খুঁজেছে যাতে তাদের পুঁজিবাদী মিত্ররা প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে ফায়দা লুটতে পারে। ৭০ বছর ধর কৃষক ও শ্রমিকরা নিরলস পরিশ্রম করে এই দেশ গড়ে তুলেছেন, সে দেশকে বিক্রি করে দিচ্ছে এরা। এরাই আসল দেশবিরোধী, সন্ত্রাসবাদী।

এই একদিনের প্রতীকী অনশনের কর্মসূচি থেকে আমরা ফাদার স্ট্যান স্বামী ও গৌতম নওলাখাকে তাঁদের আপত্তি সত্ত্বেও বাদ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তাঁদের শারীরিক অসুস্থতার কথা মাথায় রেখে।

নিজেদের স্বাস্থ্যের কথা না-ভেবে তাঁরা অনশনে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। তাঁরা অনশনে যোগ না-দিলেও নৈতিক ভাবে আমাদের দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছেন।

কৃষকরা যে একতা, সংগ্রামের যে মনোভাব ও দৃঢ়তা ব্যক্ত করেছেন, তা সন্দেহাতীতভাবেই ভারতের মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হিসেবে থেকে যাবে। আমরা পরিপূর্ণভাবে তাঁদের সংগ্রামের সঙ্গে আছি।

আমরা সকল নাগরিকের কাছে আবেদন জানাচ্ছি তাঁরা যেন এই সংগ্রামে সর্বতভাবে যোগ দেন এবং কৃষকদের কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী করে তোলেন।

 

Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

বালুচ আন্দোলনের নেত্রী করিমার রহস্যজনক মৃত্যু

Read Next

শান্তিনিকেতনে, পৌষমেলার পরিবর্তে

Leave a comment

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.