Breaking News

নোটবন্দি জাতীয় অগ্রগতিতে ব্যাপক সাহায্য করেছে : নরেন্দ্র মোদী 

অর্থনীতির বেহাল দশার কারণ নোটবন্দি এবং জিএসটি : রাহুল গান্ধী  

ইস্টার্ন টাইমস , নয়াদিল্লি: ভারতকে  কালো টাকা থেকে মুক্ত করতে চার বছর আগে দেশে নজিরবিহীন নোটবন্দিকরণের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকার।সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনী জনসভায় অথবা সরকারি সাফল্যের খতিয়ানে সে ভাবে শোনা যায়না নোটবন্দির কথা।
রবিবার নোটবন্দির চতুর্থ বর্ষপূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আবার সেই ‘বিতর্কিত’ সিদ্ধান্তের সাফল্যের কথা বললেন। নোটবন্দির বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর টুইট বার্তা , কালো টাকা কমিয়ে, করের টাকা কোষাগারে জমা করতে এবং দেশের অগ্রগতির জন্য নোটবন্দিকরণ অত্যন্ত উপকারী ভূমিকা গ্রহণ করেছে।

নোটবন্দির পরবর্তী বছরগুলিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থেকে শুরু করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি যে মন্তব্যই করুক না কেন ,রবিবার মোদী টুইটে বলেন, “কালো টাকা কমাতে, কর আদায় করতে এবং স্বচ্ছতা বাড়িয়ে তুলতে নোটবন্দিকরণ অনেকটাই সাহায্য করেছে। যা জাতীয় অগ্রগতিতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করেছে। #DeMolishingCorruption”

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে ৮ নভেম্বর অপ্রত্যাশিতভাবে এই পদক্ষেপ নিয়েছিল নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। হঠাৎ করেই ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিল ঘোষণা করা হয়।

হঠাৎ নোট প্রত্যাহার করায় ব্যাঙ্কে চাপ বৃদ্ধি পায়। বাজারের চাহিদাও কমে যায়, সঙ্কটের মুখোমুখি হয় বহু ব্যবসা, জিডিপির বৃদ্ধিও কমে যায় ১.৫ শতাংশ। এর ফলে অর্থনীতিতে অনেকটা ধাক্কা এসে পড়ে। ছোট ছোট ইউনিটগুলি আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হয়। নয় মাস পরেও যে চিত্রে কোনও বদল আসেনি।

পরিসংখ্যান বলছে, নোটবন্দির সময় ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলতে গিয়ে প্রায় ১১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। যদিও পরবর্তীতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া নতুন ৫০০ ও ২ হাজার টাকার নোট আনে বাজারে কিন্তু তার গতি ছিল কম। মোদীর এই সিদ্ধান্ত বিরোধী মহলেও সমালোচিত হয়েছিল।

এরপরই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তরফে বলা হয়, নোটবন্দির ফলে যে টাকা প্রত্যাহার করা হয়েছিল তা প্রায় পুরোপুরি ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় ফিরে এসেছে।অর্থাৎ ,কালো টাকার সন্ধান পাওয়া যায়নি। 

কিন্তু হার মানতে রাজি নয় সরকার। নিয়মমাফিক প্রধানমন্ত্রীর সুরেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এদিন দাবি করেছেন , ‘নোটবাতিলের জেরে কর কাঠামোর উন্নতি ও আদায় বেড়েছে। ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য নয়া দিগন্ত খুলে দিয়েছে নোটবাতিল।’

এদিন একাধিক টুইট করে নোটবাতিলের উপকারিতা সম্পর্কে নির্মলা বলেছেন, ‘ভারতকে দুর্নীতিমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি মাফিক মোদী সরকার চার বছর আগে নোটবন্দি করেছিল এই দিনে। কালো টাকার বিরুদ্ধে এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইক দেশের করকাঠামোর উন্নয়ন এবং ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রথম পদক্ষেপ ছিল।’

সীতারমণ জানিয়েছেন, ৯০০ কোটি হিসাব বহির্ভূত আয় বাজেয়াপ্ত হয়েছে নোটবন্দির প্রথম চার মাসের মধ্যে।

গত তিন বছরে ৩,৯৫০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়েছে। অপারেশন ক্লিন মানি দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করেছে নোটবন্দির পর। নির্মলার দাবি, নোটবন্দি শুধুমাত্র কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং ব্যাপকতাই আনেনি, এটা টাকার মূল্যহ্রাস এবং সার্কুলেশনকেও নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করেছে।

প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর ওই টুইটের প্রতিক্রিয়া দিতে দেরি করেনি কংগ্রেস। সোশ্যাল মিডিয়ায় কংগ্রেসের পাল্টা দাবি, এই (বিজেপি) দলটির মূল লক্ষ্যই ঋণ খেলাপিদের সাহায্য করা। ওই পদক্ষেপের ফলে জিডিপির হার ২.‌২ শতাংশ এবং বেকারত্ব তিন শতাংশ বেড়েছিল।

রাহুল গান্ধী এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেন, কীভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি ভারতকে ছাপিয়ে গেল, এখানে একসময় ভারতের অর্থনীতি উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে সব থেকে বেশি প্রতিশ্রুতিসম্পন্ন ছিল। রাহুলের প্রশ্ন, ‘‌সরকার যদি কোভিডের সাফাই দেয়, তাহলে কোভিড তো বাংলাদেশেও আছে।আসলে কারণটা কোভিড নয়, ভারতের অর্থনীতির বেহাল দশার কারণ নোটবন্দি এবং জিএসটি।’‌ মোদীর  অর্থনৈতিক নীতি দেশের কৃষক, মজুর, ছোট ব্যবসায়ীদের আরও সমস্যায় ফেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ রাহুল গান্ধীর ।

Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

কাশ্মীরে গুলির লড়াইয়ে শহিদ ভারতের তিন সেনা ও এক বিএসএফ জওয়ান,নিহত ৩ জঙ্গি

Read Next

কেমন যাবে আপনার আজকের দিনটি : দৈনিক রাশিফল

Leave a comment

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.