Breaking News

বাবরি মামলার রায় : ‘এই রায়ে ন্যায়বিচারের জয় হল’-বিজেপি ; সংবিধানের মূল ধারার উপর আঘাত-কংগ্রেস ; রায় ‘সম্পূর্ণ প্রহসন’ মন্তব্য প্রাক্তন বিচারপতি এম এস লিবারহানের

Babri Masjid Demolition Case:

Babri Masjid Demolition Case:

ইস্টার্ন টাইমস ,নতুন দিল্লি: বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মামলায় ৩২ জন অভিযুক্তই নির্দোষ। লখনউয়ের বিশেষ সিবিআই আদালতের এই রায়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিজেপির নানাস্তরের নেতারা।আদালতের রায় শোনার পর আডবানি বলেছেন, ‘স্পেশাল সিবিআই আদালতের এই রায়কে আমি স্বাগত জানাচ্ছি। এই রায় রামজন্মভূমি আন্দোলনের প্রতি ব্যক্তিগতভাবে আমার এবং বিজেপির বিশ্বাস ও দায়বদ্ধতা প্রমাণ করল।’ রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেছেন মুরলী মনোহর যোশী। তিনি বলেছেন, ‘আদালতের রায়ে আজ প্রমাণিত আমাদের আন্দোলন ও মিছিলে কোনও যড়যন্ত্র ছিল না। আমরা খুশি। এখন রামমন্দিরের নির্মাণ নিয়ে সবাই উৎসাহিত ও আগ্রহী।’

rajnath singh

লখনউ -তে রায় প্রকাশের পরেই টুইট করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, ‘স্পেশাল কোর্ট বলেছে, বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলি মনোহর যোশী, কল্যাণ সিং সহ ৩২ জন অভিযুক্ত কোনও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন না। এই রায়ে ন্যায়বিচারের জয় হল। যদিও রায় দিতে দেরি হয়েছে।’

বিজেপি নেতা তথা বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল কুমার মোদী বলেন, “১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বরের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলাম আমি। পুরো ব্যাপারটাই ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। এর পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র ছিল না। আমি মঞ্চ থেকে একটি সভা পরিচালনা করছিলাম। এমন সময় দেখলাম কয়েকজন করসেবক বাবরি মসজিদের ওপরে উঠে পড়েছে। আডবাণীজি তাতে অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন।”

 

west bengal bjp leader rahul sinha
west bengal bjp leader rahul sinha

সদ্য দলের কেন্দ্রীয় কর্মসমিতি থেকে বাদ পড়া পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেছেন ,জনরোষ ভাঙা হয়েছিল বাবরি মসজিদ। আদালতের রায় সে কথাই প্রমাণ করে। মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার পরই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন রাহুল সিনহা। তিনি বলেন, দীর্ঘ দুই দশক পরে অবশ্য লালকৃষ্ণ আদবানি, মুরলী মনোহর যোশী,উমা ভারতীর মতো প্রবীণ বিজেপি নেতারা অভিযোগ মুক্ত হলেন । আজকের আদালতের রায় সাধারণ মানুষের কাছেও স্বস্তিকর বলে জানিয়েছেন রাহুল । তিনি বলেন, আদালতের রায়ে প্রমাণ হলো এরা কেউ ধ্বংসের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। জনরোষ এই বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়েছিল।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এস লিবারহান

যদিও সিবিআই-এর বিশেষ আদালতের রায়কে ‘সম্পূর্ণ প্রহসন’ বলে চিহ্নিত করেছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এস লিবারহান।১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনার তদন্তের জন্য নরসিমহা রাও সরকারের গঠন করা কমিশনের প্রধান ছিলেন এম এস লিবারহান।সিবিআই’র বিশেষ আদালতের বিচারপতি এস কে যাদব রায় ঘোষণা করে বাবরি ধ্বংস পূর্ব পরিকল্পিত নয় বলে যে মন্তব্য করেছেন ,তা মেনে নিতে রাজি নন লিবারহান। তিনি বলেছেন ,”পুরো রায় আমি এখনো পড়ে দেখিনি। তবে প্রাথমিকভাবে এটুকু বলতে পারি বাবরি মসজিদ ধ্বংস পূর্ব পরিকল্পিত নয় বলে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তা কমিশনের রিপোর্টের সম্পূর্ণ বিরোধী।”

 

Randeep Surjewala
Randeep Surjewala

রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা

রায়ের সমালোচনা করেছে কংগ্রেসও।বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলা সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের রায়কে ‘সংবিধানের ভাবধারার’ বিরোধী বলে মন্তব্য করেছে কংগ্রেস। ২০১৯ সালে বাবরি জমি বিতর্ক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ ১০৯২ সালের ৬ ডিসেম্বরের ঘটনাকে ‘আইন লংঘন’ বলে অভিহিত করেছিল। এ দিনের রায়ে সুপ্রিম কোর্টের সেদিনের মতামতের বিরোধী বলে দাবি কংগ্রেসের । সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের রায়ের বিপক্ষে ফের উচ্চ আদালতে আবেদনের করুক কেন্দ্র ও উত্তরপ্রদেশ সরকার, আর্জি কংগ্রেসের।দলের মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা বলেছেন, ‘সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের রায় বাবরি মসজিদ ধ্বংস প্রসঙ্গে গত বছর ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট-এর বক্তব্য ও সংবিধানের মূল ভাবধারার বিরোধী। সেদিন সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর যা হয়েছে তা গুরুতরভাবে আইন-শৃঙ্খলা লংঙঘন। কিন্তু তারপরও বিশেষ আদালত সব অভিযুক্তকেই বেকসুর খালাস বলে জানিয়েছে। স্পষ্ট যে, এই রায় সর্বোচ্চ আদালতের ব্যাখ্যাকেই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।’

তিনি বলেছেন , ‘যেকোনও উপায় ক্ষমতা দখলের জন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ভাতৃত্ববোধ নষ্ট করে বাবরি মসজিদ ভেঙেছিল আরএসএস-বিজেপি। গোটা দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট যে সেটাষড়যন্ত্র ছিল। এই ষড়যন্ত্রের সহযোগিতা করেছিল তৎকালীর উত্তরপ্রদেশ সরকার। এটা সংবিধানের মূল ধারার উপর আঘাত। সুপ্রিম কোর্টকে ভুল পথে চালনার চেষ্টা করা হলেও তা হয়নি। সুপ্রিম কোর্ট ওই ঘটনাকে গুরুতর আইন লংঘন বলে জানিয়েছে।’

Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

অবসরের পর ছবি প্রযোজনা করবেন মহেন্দ্র সিং ধোনি

Read Next

নিউ নর্মাল পরিস্থিতিতে, নিয়মে অনেক বদল নিয়ে খুলে গেল আলিপুর চিড়িয়াখানার দরজা

Leave a comment

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.