Breaking News

বিশেষ অজ্ঞের কোভিদ জিজ্ঞাসা

Asked the special ignorant Covid19

পার্থপ্রতিম মৈত্র

পর্ব-৬: সোশ্যাল-ডিসট্যান্সিং ?

কোভিদ-১৯ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন আছে। কিন্তু সবার নয়। বয়স্ক, বিশেষতঃ যাদের হৃদয় বা ফুসফুসের রোগ বা ডায়াবেটিসের মতো গুরুতর অসুস্থতা রয়েছে তাদেরই কোভিড-১৯ ভাইরাস থেকে আরও গুরুতর জটিলতা বৃদ্ধির ঝুঁকি বেশি রয়েছে। অধিকতর ইমিউনো-কম্প্রোমাইজড, অপুষ্টি আক্রান্ত মহিলা, মানসিক স্ট্রেসের রোগী, দারিদ্র্য স্তরের নীচের মানুষ, নিম্ন মধ্যবিত্ত, অভিবাসী শ্রমজীবী, কারখানা-শ্রমিক, কৃষিশ্রমিক, চুক্তি-শ্রমিক, লকডাউনে চাকরী হারানো, মাইনে না পাওয়া মানুষরাই কোভিড-১৯ লকডাউন পর্বে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এটি একটি অন্তহীন সারি এবং প্রক্রিয়া। কে জানে যে, উপরে বর্ণিত বিভাগগুলি থেকে কে করোনা ভাইরাসে মারা যাচ্ছে এবং কে বয়স বা অন্য অসুস্থতা থেকে মৃত্যুসংখ্যা বৃদ্ধি করে যাচ্ছে? কেবল এদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব রাখুন। যাকে বলে সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং। যাদের সন্তান উঁচু জাতের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ে, তাদের জন্য বেশ কিছুদিন ধরে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু রাজ্যবোর্ডের ছাত্রছাত্রীরা, যাদের বেশীর ভাগের কাছে একটি স্মার্টফোনের অধিকারী হওয়া দিবাস্বপ্ন, তারা ক্রমাগতঃ পিছোচ্ছে। তাদের পক্ষে পরবর্তী সোপানে সেরা কলেজের, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বহুযোজন পিছিয়ে থাকা স্বাভাবিক। এভাবেই নতুন শ্রেণীবিন্যাস তৈরী হয়।

আমরা মধ্যবিত্ত, বাবু শ্রেণী। মোদি চার ঘন্টার নোটিশ দিলে, দৌড়ে গিয়ে বাজার থেকে লকডাউন পিরিয়ডের রেশন স্টক করি। মাসকাবারি, বাজার আগুন, সঙ্গে ওষুধ, ডিসপোজেবল মাস্ক, দশ রকমের স্যানিটাইজার, তিন রকমের সাবান শ্যাম্পু। আগের বার ছিল নোটবন্দী, এবার ঘর বন্দী। কেউ কাউকে ছুঁই না। ছোঁয়া লেগে গেলে ডেটল জলে হাত ধুই বা হ্যান্ড স্যানিটাইজারে। এগুলি সব এক্সট্রা খরচ। আপাততঃ ভূতে যোগাচ্ছে। ঘরের মধ্যেও মুখোশ পড়ে থাকি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখি। মধ্যবিত্তরা চিরকেলে ল-অ্যাবাইডিং পিপল। অথচ বাঁচার অদম্য আগ্রহ। সাধারণ হাঁচি বা কাশি হলে বাকীরা এই মারে কি সেই মারে। ঘরের মধ্যে মুখ ঢেকে অতি আপনার জনকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা। অবশ্য চেষ্টা না করেই বা করবে কী? বাইরে বেরোলে পুলিশ নির্বিচারে লাঠি মারবে, আর পাবলিক লাথি মারবে। কেউ জানে না লকডাউন কবে উঠবে, আর উঠলে সবেধন নীলমণি চাকরী খানা থাকবে কি না। পাশেই বস্তীর অবস্থা ভাবুন। ছোট্ট একচিলতে ঘর। চারপাশে দশ ঘর এক উঠোন। কমন টয়লেট অনেকের। লোকের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালায়। এখন কোত্থেকে টাকা ধার করছে কে জানে? কী খাচ্ছে কে জানে। কারও জমানো টাকা নেই, এদের থাকে না। জ্বর হলে, শুকনো কাশি হলে, নিঃশ্বাসের কষ্ট হলে এরা কাউকে পাঠিয়ে ফার্মাসীর থেকে ওষুধ খেয়ে নেয়। ডাক্তারের কাছে যায়না। বাড়াবাড়ি হলে সরকারী হাসপাতালে, দু টাকার টিকিট। করোনায় তো কিওরের সম্ভাবনা নেই নিকট ভবিষ্যতে। কাজ নেই, খাবার নেই। এমনকি মরলে দাহ করাও ঝকমারী।

এ তো গেল শহর আর শহরতলীর কথা। তার বাইরে যে বিস্তীর্ণ গ্রাম, সেখানে চাষ হয়না, মিল বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যক্তিগত আর সামাজিক অর্থনীতি ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীরা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাদের, পার্টিকর্মীদের ত্রাণ বিলির আহ্বান জানাচ্ছেন। তারাই বা কোথায় টাকা পাবে? আমাদের মত ধুঁকতে থাকা মানুষই ভরসা। উগান্ডার মত দেশে সরকারী খরচে বাড়ি বাড়ি চাল আটা সব সাপ্লাই দেওয়া হয়েছে। উগান্ডায় ত্রাণ বা রিলিফ বলা নিষেধ। কেননা এ টাকা তো ঐ জনগণেরই ট্যাক্সের টাকা। তাদের টাকাতেই তাদের খাবার জোগান দেওয়া হচ্ছে। কেননা লকডাউন চলছে। এদেশে হাজার কোটির মালিকেরা তো পি এম কেয়ারে টাকা দিচ্ছেন। “যেথায় তোমার লুঠ হতেছে ভুবনে”। টেস্টকিট নেই, হেল্থওয়ার্কারদের পিপিই নেই, মাস্ক নেই, খাবার নেই, কাজ নেই। নেই রাজার রাজত্বে সুখে আছি। শুধু একটাই প্রশ্ন জেগে থাকে। অনাহারে মৃত্যু কি করোনায় মৃত্যুর চেয়ে কম কষ্ট দায়ক?

“কোয়ারান্টাইন” এবং ‘বিচ্ছিন্নতা’ দুটি শব্দই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে পৃথক করার কাজকে বোঝায়। তবে শর্তাবলী আলাদা। এমন কাউকেই কোয়ারেন্টাইন করা হয়, যার কোনও লক্ষণ নেই। আর বিচ্ছিন্নতা ব্যবহার করা হয় যখন কেউ এই রোগ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কোয়ারান্টাইন তখনই হয় যখন পুরোপুরি অ্যাসিম্পটোম্যাটিক মানুষ, যারা এমন একটি অঞ্চলে ভ্রমণ করেছেন যেটি কোভিদ-১৯ প্রবণ অঞ্চল, বা তারা কোনওভাবে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এসেছেন। অর্থাৎ যাদের কোনওভাবে সংক্রামিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। কোয়ারান্টাইন এর নির্ধারিত সুবিধাকেন্দ্রে বা বাড়িতে ১৪ দিনের জন্য তাদের অন্তরীন রাখা যেতে পারে। আইসোলেশন বা বিচ্ছিন্ন করা হয় সেই ব্যক্তিদের যারা কোভিদ-১৯ পজিটিভ বা কোভিদ-১৯ এর লক্ষণগুলি যাদের মধ্যে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে, তাদের সুস্থ এবং অনাক্রান্ত মানুষদের থেকে আলাদা করে ফেলা হয়, যাতে তারা সুস্থ মানুষদের মধ্যে সংক্রমণ ঘটাতে না পারে।

অথচ এই দুটি পদ্ধতি ছাড়াও তৃতীয় যে পদ্ধতি যে কোনও সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে এতোকাল ব্যত্যয়হীন ভাবে অনুসৃত হয়ে আসছে, তা হলো হার্ড ইমিউনিটি ডেভেলপ করা। অর্থাৎ কমিউনিটির বহু মানুষের শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশ করলে, শরীরের যে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তাই গোষ্ঠির অনাক্রান্তদেরও প্রতিরোধ শক্তি দেয়। ভাইরাসের চেইন ভেঙ্গে ফেলে। কিন্তু এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করবে কীভাবে? হয় গোষ্ঠির অনেকে ভাইরাস আক্রান্ত হবেন, অথবা ভ্যাকসিনের মধ্যমে। কিন্তু কবে ভ্যাকসিন বেরোবে, কী হবে তার কর্মক্ষমতা, আর তার সাইড এফেক্ট কী হবে তা কেউ জানে না। এদিকে সামাজিক দূরত্বের মাধ্যমে মানুষ মানুষের সংসর্গ ত্যাগ করেছে। ফলে হার্ড ইমিউনিটি গড়ে ওঠার কোনও সম্ভাবনা নেই। কিন্তু যুক্তিটা কী? যুক্তি এই যে কোভিদ-১৯ ভয়ংকর সংক্রামক। তার মৃত্যু হারও বেশী। ফলে ভ্যাকসিন বেরোনোর আগেই বহু লোকের মৃত্যু হবে। সে ঝুঁকি নেওয়া যাবেনা বলেই সামাজিক দূরত্ব বাধ্যতামূলক করা।

কিন্তু সত্যিই কি তাই ? সংক্রমণ হার (আর.নট) বিবেচনা করলে হাম (১২-১৮), চিকেন পক্স (১০-১২), গুটিবসন্ত (৫-৭), রুবেলা (৬-৭), মাম্পস (৪-৭), এইডস (২-৫), ফ্লু (২-৩), এমনকি সার্সের ও (২-৫) আর. নট। কোভিদ-১৯ এর সংক্রমণ হার (আর.নট) মাত্র ২-২.৫। এমনকি এর কাছাকাছি রয়েছে ইবোলা (১.৫-২.৪), মের্স (০.৩-০.৮)। কিন্তু এই সব রোগের মৃত্যুহার (মর্টালিটি রেট) কোভিদের চাইতে বহুগুণ বেশী। যেমন ২০০০ সালের মারবুর্গ ভাইরাস এর মৃত্যুহার ছিল ৮০%, ইবোলায় ৫০-৭০%, রাবিসে প্রায় ১০০%, ফ্লু তে ৪০%। এর আগের দুটি করোনা ভাইরাসের মধ্যে সার্সের মৃত্যুহার ৯.৬%, মের্সে মৃত্যুহার ৩০-৪০%। আর কোভিদে মৃত্যু হার মাত্র ২.৩%। হু-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বের ৪০% লোক ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকায় বাস করে এবং বছরে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ মিলিয়ন আক্রান্ত হয় এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে মৃত্যুহার ২.৫% থেকে বেড়ে ২০% ও পৌঁছে যেতে পারে। আজও ডেঙ্গুর কোনও চিকিৎসা নেই।

আচ্ছা আমরা কোন দেশে মৃত্যু বেশী সেটা জানতে পারি, আর কোথায় কম জানিনা কেন? আমাদের দেশ তো চীন বা আমেরিকা বা জার্মানী ইটালী স্পেন নয় বরং অনুন্নত আফ্রিকানরা অর্থনীতি বা সমাজনীতিতে আমাদের নিকটাত্মীয়। যেখানে করোনা অশ্বমেধের ঘোড়ার গতিহ্রাস হয়েছে। ভারতে ব্যাপক আকারে ডেঙ্গু হয়, ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়ে, আন্ত্রিক দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে, অজানা জ্বর হতচকিত করে দেয়, তখন আক্রান্ত কে সমাজবিচ্ছিন্ন করে ফেলা চিরকালীন প্রথা। সে ক্ষেত্রে করোনা-ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য কোথায়? বৈশিষ্ট্য এখানেই যে, অন্যান্য সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে আক্রান্তকে সমাজ বিচ্ছিন্ন করা হয়, এক্ষেত্রে গোটা সমাজকে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে আক্রান্তের কাছ থেকে। এবং এই বিচ্ছিন্নতা বাধ্যতামূলক। কর্মস্থল, পরিবার এবং বন্ধুবান্ধবদের সাথে দেখা করা, আড্ডা, উচ্চশিক্ষা, প্রেম এবং এসব সামাজিকীকরণ মানুষের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। মনোরোগ বিশেষজ্ঞেরা বলেন, যে পরিবারের সদস্যরা যদি “স্বেচ্ছা গৃহবন্দীত্বে” নিজেদের মধ্যে বেশী সময় ব্যয় করে ফেলেন তখন তারা জগৎ বিচ্ছিন্ন এবং পরস্পরের কাছে হাইলি ওভারএক্সপোজড। ফলে খামতিগুলি দৃষ্টিকটুভাবে চোখে পড়তে থাকে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে, সীমাবদ্ধ ফ্ল্যাটের গণ্ডীতে আটকে থাকা মানুষ-মানুষীর সম্পর্ক একটি প্রেশার কুকারে পরিণত হতে পারে, যা সেফটি ভাল্ব না থাকলে একটা সময়ে উড়ে যেতে বাধ্য। অতি নৈকট্য থেকে অতি দূরত্ব। করোনাকালে জীবন এই সিনড্রোমের দিকেই চোখ ফেরায়। অতি সংকট সম্ভাবনা জীইয়ে রাখা (যেমন কল্পিত শত্রু, যেমন নিজামুদ্দিনের মুসলমান, যেমন করোনা থারড-স্টেজ, বন্ধ স্কুল কলেজ, ওয়ার্ক ফ্রম হোম, পিঙ্ক লেটার, নাগরিকত্ব, পাকিস্তান, সিউডো-সেকুলার, ইত্যাদি) অথবা সোশ্যাল ইন্টারঅ্যাকশনে যাওয়া (খেলাধূলো, মোবাইল, প্রেম-প্রত্যাখ্যান, অফিস সময়, ভাটবকা, চায়ের দোকান, খালাসীটোলা, উচ্ছব-মোচ্ছব, বাজার—মল, রাজা-উজির আর সুইট হোম) এই সব কিছুর মধ্যে জীবনকে ভাগ করে নেওয়া, এছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে গিয়ে, শুধু নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত করতে গিয়ে, আমরা পরিবারটিকেই ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে ফেলছি।

এই যে নতুন করে নতুন অর্থনীতি গড়ে উঠতে যাচ্ছে, সেখানে সোশ্যাল ডিসট্যান্স মেন্টেন করে কিভাবে ফ্যাক্টরি চলবে, কিভাবে বাজার চলবে, কিভাবে জীবনযাত্রা চলবে, পরিবহন চলবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে, স্বাস্থ্যব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতি থামবে, তা নিয়ে কেউ ভাবিত নয়। করোনাসঞ্জাত ভবিষ্যতে, দুর্ভিক্ষ, কর্মহীনতা আর সামাজিক সুরক্ষাহীনতায় আক্রান্ত হবে মধ্যবিত্ত, আর নিম্নবিত্ত শ্রেণী। এমনকি তাদের শ্রেণীসত্তা বিলুপ্তও হতে পারে। অন্য আরও বহু সংক্রামক রোগের মত করোনাও থাকতেই এসেছে। আমাদের জন্য প্রয়োজন ছিল, হয় সহাবস্থান, প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ,অথবা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া। বোঝা দরকার ছিল, কেন করোনা সর্বত্র সমান ক্রিয়াশীল নয়। কেন বিভিন্ন দেশে, মহাদেশে, শিক্ষায় অশিক্ষায়, উষ্ণতায় শৈত্যে তার প্রকারভেদ হয়? দেশের অভ্যন্তরে, প্রদেশে প্রদেশে কেন তার প্রকোপভেদ হয়? এর মধ্যে কতটুকু বিজ্ঞান, কতটা আর্থ-সামাজিক নীতি আর কতটা রাজনীতি? শুধু করোনার অজুহাতে লকডাউন আর সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং এও মানুষকে অভ্যস্ত করিয়ে নেওয়া হলো। এরপর থেকে মহামারী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা টেররিস্ট অ্যাটাক যে কোন বিক্ষোভে বিদ্রোহে, যে কোনও অপশাসনে, যে কোনও অজুহাতে মানুষকে ঘরবন্দী করে ফেলার নতুন ওষুধ আবিষ্কৃত হলো। এ ওষুধের সবচেয়ে বড় গুণ হলো মানুষ স্বেচ্ছায় গৃহবন্দীত্ব চায়।নিজের গৃহকোণের বাইরের পৃথিবীকে দেখতে চায় না। চাইলেও অন্যেরা তাকে দেখতে দেয় না। তাসের দেশের এইসব রুইতন, চিড়েতন, হরতন, আর ইস্কাপনরা স্বেচ্ছাবন্দীত্বে সবচেয়ে সুরক্ষিত ও নিশ্চিন্ত বোধ করে। এই ধরণের নাগরিক যে কোন রাষ্ট্রের সম্পদ।

যেদিন লক-আনলক মুক্ত পৃথিবীতে মিথ্যের কুয়াশা সরিয়ে রোদ উঁকি মারবে, সেদিন আমরা প্রতিবেশীদের, ভাইবোনদের, পরিবারের সকলের, শীতকালে রোদ পোহানো বৃদ্ধবৃদ্ধার, ছুতোর, ইলেকট্রিক মিস্ত্রী, রাজমিস্ত্রী, মুচি, সুইপার, পুরোহিত, ইমাম, যাজক, ভান্তে, গৃহসহায়িকা, মাছওয়ালা, ফলওয়ালা, শব্জীওয়ালা, এলাকার বাউণ্ডুলে ছেলেপিলের, এই মন্দার বাজারেও যে সব ছাত্রছাত্রি কেরিয়ারের দিকে ফিরেও না তাকিয়ে কারণে অকারণে সার্ভিস দিতে এগিয়ে আসে তাদের, পাড়ার মাসীমা, কাকিমা, কাকা, জ্যাঠা আরও যে অসংখ্য মানুষকে নিয়ে আমাদের পৃথিবী, তাদের চিনতে পারবো তো? মুখগুলো মনে পড়বে তো? তারা সবাই বেঁচে থাকবে তো? এই লক-আনলকে তারা খেতে পাচ্ছে তো? পরিবারকে একটু খেতে দিতে পারছে তো? মরে গেলে শ্মশান অবধি যেতে পারছে তো? এসব ইনভ্যালিড প্রশ্ন।

চুপ, সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং চালু আছে।

Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

কেমন যাবে আপনার আজকের দিনটি : দৈনিক রাশিফল

Read Next

একজন শুভেন্দুকে নিয়েই ২৫০–র বেশি আসন পাবে বলছে, ভাগ্যিস ৩০০ বলে দেয়নি, ব্যঙ্গক্তি সুব্রত মুখার্জির

Leave a comment

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.