Breaking News

বিশেষ অজ্ঞের কোভিদ জিজ্ঞাসা

পার্থপ্রতিম মৈত্র

পর্ব-২: মাস্ক?

অর্ধবৎসরের বেশী সময় পেরিয়ে গেল কোনও মানুষের মুখ দেখলাম না ভালো ক’রে। সব মুখোশে ঢাকা। কোন যুগে অটল বাজপেয়ীকে দলের মুখ নয় মুখোশ ব’লে, গোবিন্দাচার্যকে হারিয়ে যেতে হলো। আর আজ শুধু নেতা নয়, দল নয়, দেশটাই মুখোশ পরে আছে। প্রশ্ন হলো এত মুখোশ পরেও তথাকথিত সংক্রমণ তো বেড়েই চলেছে।

এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে লকডাউন-২ ঘোষণার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি ঘোষণা করেছিলেন বাড়ি থেকে বেরোলে মাস্ক পরা সারা দেশে বাধ্যতামূলক করা হলো।

এমনকি বাড়িতে বানানো মুখোশ হলেও চলবে।

তারপর গঙ্গা, কাবেরী, ব্রহ্মপুত্র দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গেছে। লকডাউন ঘোষণার সময় কোভিদ আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫০০ জন, আর আজ তা আশী লক্ষ পেরিয়ে গেছে।

কুড়ি লক্ষ কোটি টাকার কোভিদফাণ্ড তৈরী হয়েছে। মাস্ক -পিপিই কিট থেকে শুরু করে টেস্ট কিট কেনা হচ্ছে বহুজাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে। মেক ইন ইণ্ডিয়া শ্লোগান আপাততঃ শিকেয়।

অকাতরে আশ্বাস ছড়ানো হচ্ছে ভ্যাকসিন আমরাই বানাবো। অথচ এরাই বাধ্যতামূলক মুখোশে মুখ ঢাকা, আর সামাজিক দূরত্বের প্রবল প্রবক্তা।

তবে কি মুখোশে মুখ ঢাকা আর সামাজিক দূরত্ব আরোপণের মধ্যেই লুকিয়ে আছে করোনার বিপুল বিস্তারের শর্তগুলি?

এপ্রিল মাসের প্রথমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন সি.ডি.সিকে উদ্ধৃত করে নিদান দিচ্ছেন যে প্রত্যেক আমেরিকান যেন বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় মাস্ক পরে, তখন আমেরিকার সার্জন জেনারেল জেরোম এম অ্যাডামস টুইট করে সতর্ক করেছিলেন যে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে করোনা ভাইরাসকে আটকাতে মুখোশ মোটেও কার্যকর নয়।

জনগণকে মুখোশ কেনা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে এটি করোনা ভাইরাস ছড়ানোর দেওয়ার বিরুদ্ধে সহায়তা তো করবেই না, উল্টে স্বাস্থ্যসেবা

পেশাদারদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হরণ করবে।

পাশাপাশি হু-এর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জরুরী প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক ডঃ মাইকেল জে রায়ান বলেছিলেন যে মুখোশগুলি প্রাথমিকভাবে একজন ব্যক্তিকে অন্য কাউকে এই রোগ সংক্রামিত করা থেকে বিরত করে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা হু জানিয়ে দিয়েছে ব্যায়াম করার সময় (পড়ুন পরিশ্রম করার সময়), মুখোশ পরা উচিত নয়, কারণ মুখোশ মানুষের স্বচ্ছন্দে শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস করতে পারে। ঘামে মুখোশটি দ্রুত ভিজে যেতে পারে যা শ্বাস নিতে অসুবিধা সৃষ্টি করে এবং মাইক্রো অর্গানিজমের বিকাশে সাহায্য করে।

অনুশীলনের সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাটি হ’ল অন্যদের থেকে কমপক্ষে এক মিটার দৈহিক দূরত্ব বজায় রাখা।

মাস্কের প্রবল সমর্থক হু নিজেই বলছে শুধু মাস্কে কাজ দেবে না, বাকি নিয়মাবলীও মেনে চলতে হবে। তবেই সাফল্য আসবে।

অর্থাৎ পেট কামড়ালে ঝুঁকি না নিয়ে, অ্যালোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদ আর ঈশ্বরের কাছে রোগমুক্তির প্রার্থনা, সব একসঙ্গে প্রয়োগ করো। “ডু ইট অল।”

তবে বিশেষজ্ঞেরা বারবার বলছেন, মুখোশ এমন লোকদেরই পরা উচিত, যাদের শ্বাসকষ্টের সংক্রমণের লক্ষণ রয়েছে, যেমন কাশি, হাঁচি এবং কিছু ক্ষেত্রে জ্বর।

ভাইরাস দ্বারা আক্রান্তদের প্রিয়জন, যাঁরা সেবা করছেন, সেই স্বজন-পরিজনদের, তাদের যত্ন নেওয়া চিকিৎসক ও নার্সদের, মুখোশগুলি পাওয়া জরুরি।

বিশেষ অজ্ঞের কোভিদ জিজ্ঞাসা পর্ব-১: ভ্যাকসিন?

সমস্যা হলো মানুষ বাঁচতে চায় এবং ধরে নেয় যে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য যে মুখোশ সবচাইতে বেশী কার্যকর, তা আমার পক্ষেও কার্যকর হবে।

অন্ততঃ ক্ষতি তো কিছু হবে না। মনে করে দেখুন প্রথম দিকে হু এবং দেশজ স্বাস্থ্যদপ্তরগুলি মাস্কের ব্যবহারকে গুরুত্ব তো দেয়ই নি বরং সূক্ষ্ম বিরোধিতাই করেছে।

তখন গ্লাভস ব্যবহারের প্রবণতা ছিল। পরে হঠাৎ করেই মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হলো স্যোশাল ডিসট্যান্সিং ও লকডাউনের মত। চিনই প্রথম এই মাস্ক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে শুরু করে, এবং যেহেতু চিন শুরুতেই কোভিদ নিয়ন্ত্রণে সফল, ফলে অন্য দেশগুলিও আর জনপ্রিয়তা হারানোর ঝুঁকি নিতে চায়নি।

সমস্ত উৎপাদনশীলতা বন্ধ হয়ে মাস্ক উৎপাদন হয়ে দাঁড়িয়েছে অন্যতম প্রধান বাণিজ্য। সরকার বহুজাতিক সংস্থাগুলির সঙ্গে মাসে লক্ষ লক্ষ মুখোশ তৈরির চুক্তি করেছে।

নতুন বাণিজ্যের ভিত্তি স্থাপিত হচ্ছে বিশ্বজুড়ে।

প্রশ্ন হচ্ছে কোন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগারে প্রমাণিত হলো যে, মাস্কের ব্যবহার কোভিদ-১৯ ভাইরাস প্রতিরোধে সক্ষম ? বহু পরীক্ষার গল্প আমরা শুনেছি, কিন্তু কোথাও শোনা যায়নি যে সার্স-কোভি-২ ভাইরাস মানুষের ওপর প্রয়োগ করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া গেছে।

যা পাওয়া গেছে তা হলো, অন্যান্য ভাইরাস আটকাতে পেরেছে মানেই কোভিদ-১৯ ভাইরাসও আটকাতে সক্ষম হবে, এই লজিকাল কনক্লুশন। ধরে নেওয়া গেল জনগনের ক্যালাসনেসের জন্যই কোভিদ-১৯ এভাবে ছড়াতে পেরেছে। কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীরা তো তা নন। উপরন্তু তাঁদের কাছে পিপিই কিট এবং এন-৯৫ মাস্ক থাকার কথা।

তাঁরা ভাল করে হু-নির্দেশিত “ডু ইট অল” করেন না, এমন তো হবার কথা নয়।

তাহলে তাঁরা সমস্ত বিধি মেনেও আক্রান্ত হচ্ছেন, দলে দলে মারা যাচ্ছেন কেন? পৃথিবীর সব অনুদানপ্রাপ্ত ল্যাবরেটরি আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলি একযোগে প্রমাণিত প্রমাণিত বলে চিৎকার করে মাস্ক ব্যবহার এবং ব্যবসাকে সর্বজনীন করে ফেললো, আর দু একজন ক্ষীণকণ্ঠে বিরুদ্ধাচরণ করলেই তাকে সমস্বরে “কনস্পিরেসি থিওরী” বলে লঘু করে দেখানো হবে? বৈজ্ঞানিক কমিউনিটি এবং ডক্টরস কমিউনিটি যদি বলেন মাস্ক ব্যবহার করলে করোনা প্রসার ধীর হয়, সেটা আমাদের মত বিশেষ অজ্ঞদের কাছে ঐশীবাণী।

বাস্তব তার উল্টোটা প্রমাণ করলেও বলতে হবে বাস্তব ভুল বলছে।

এইরকমই একটি মুখোশ সমর্থক গোষ্ঠি জানাচ্ছে কতক্ষণ মাস্কের কার্যকারিতা বজায় থাকে তাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা। চার ঘন্টা পর থেকে মাস্ক এর কার্যকারিতা কমে যাবার প্রবণতা থাকে।

ভাববেন না যে আপনি ঝুঁকি মুক্ত, কারণ আপনি একটি মুখোশ পরেছেন। তার মানে এই নয় যে এরোসোল আর ফোমাইট আপনার উপর প্রভাব ফেলবে না। আপনার আশেপাশের আর্দ্রতাও হিসেবের মধ্যে ধরুন।

অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের মতে, যদি বায়ু শুষ্ক হয় তবে এরোসোলগুলির গতি আরও দ্রুততর হয়ে যায়।

যদি আর্দ্রতা বেশি হয়, তবে অ্যারোসোলগুলি দীর্ঘ সময়ের জন্য আরও বড় থাকবে, যার ফলে ভাইরাস দূষণ বাড়ার সম্ভাবনা। আর ভারতবর্ষের মতো দেশে যেখানে দরিদ্রতম মানুষটিকেও ঘাড় ধরে বাধ্য করা হয় মুখোশ পরলে তবেই পথে বেরোনো যাবে, সেখানে তাদের মধ্যে এই প্রবণতা থাকবেই একই মাস্ক বারবার ধুয়ে ব্যবহার করার। অথচ বিশ্বের তাবৎ বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসককুল জানিয়েছেন যে, বারবার ধুলে মাস্কের যৎসামান্য সংক্রমণ ও প্রতিরোধ ক্ষমতাও নষ্ট হয়ে যায়।

পদার্থবিদ অর্ণব ভট্টাচার্য টিএস আই এর হয়ে এন-৯৫ মুখোশের কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে গিয়ে হতভম্ব হয়ে লক্ষ্য করেন যে বাজারে এন-৯৫ মাস্ক নামে যা চালানো হচ্ছে তার অধিকাংশই জাল। বিপুল দামে সেগুলি বিক্রি করা হচ্ছে আতঙ্কিত ক্রেতাদের কাছে, যাদের বিশ্বাস ছাড়া অন্য কোনও অবলম্বন নেই। এন-৯৫ এরই এই অবস্থা হলে হতদরিদ্র মানুষগুলির কাছে যা গছানো হচ্ছে তার কার্যকারিতা কী? সার্জিকাল মাস্কের নামে, এমনকি কেএন-৯৫ নামে যে মাস্ক বিক্রি হচ্ছে, লকডাউনে কাজ হারিয়ে যারা ফুটপাথে ঢেলে বিক্রি করছে সে সব মাস্কের সঙ্গে বাজারী এন-৯৫ ফারাক কোথায়?

মুখোশের তত্ব হচ্ছে সংক্রামক উৎসেই কোভিদ-১৯ ভাইরাসকে আটকে দেওয়া। একে বলে সোর্স কনট্রোল (উৎসে নিয়ন্ত্রণ)।

নাক এবং মুখ থেকে ভাইরাসের ড্রপলেট বা এরোসোল হিসেবে ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে এটি প্রয়োজনীয়। কোনও ব্যক্তি সংক্রামিত না হলে মুখোশ পরিধান করা অকারণ (ঝুঁকি এড়ানো ছাড়া), কারণ মুখোশগুলি বায়ু থেকে ভাইরাস ফিল্টার করতে পারে না। বলা হচ্ছে কোনও ব্যক্তি সংক্রামিত কিনা তা বিবেচনা করা উচিত নয়, কারণ ভাইরাসে আক্রান্ত বেশিরভাগ লোকের কোনও লক্ষণই দেখা যায় না (অ্যাসিম্পটোম্যাটিক)।

যদিও কেন একজন আক্রান্ত অ্যাসিম্পটোম্যাটিক, এবং তারা কীভাবে সংক্রমণের বিস্তার বৃদ্ধি করে, আদৌ করে কি না, তাও সাধারণ্যে অজানা। সারা পৃথিবীতে মুখোশের তত্ব দাঁড়িয়ে আছে এই অ্যাসিম্পটোম্যাটিক আক্রান্ত ভীতির উপর। যার হাঁচি নেই, কাশি নেই, সর্দি নেই, প্রকাশ্য লক্ষণ নেই, বলা হচ্ছে সে জোরে কথা বললে, উঁচু স্কেলে গান গাইলে, কাছে থাকা মানুষদের সংক্রামিত হওয়ার চান্স থাকে।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা তো এও বলছেন হাঁটতে হাঁটতে সংক্রমণ ঘটে না। নিউ ইংল্যাণ্ড জার্ণাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত প্রবন্ধে বলা হচ্ছে কোনও সিম্পটোম্যাটিক আক্রান্তের মুখোমুখি দশ থেকে ত্রিশ মিনিটের সংযোগ না ঘটলে সুস্থ মানুষের আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা প্রায় নেই।

বিতর্কিত ভাইরোলজিস্ট জুডি মাইকোভিটস বলেছেন, মুখোশ কার্যকরী হওয়ার অর্থ নাকে মুখে বায়ু চলাচল নিশ্চ্ছিদ্র করা।

তাতে অক্সিজেন প্রবেশ বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং নিজের প্রশ্বাসের সঙ্গে নির্গত কার্বন-ডাই-অক্সাইড বেরোতে না পেরে নিঃশ্বাসের সঙ্গে আবার ভিতরে চলে যায়। এই জন্য মুখোশ পরে থাকলে শ্বাসকষ্ট বাড়ে। হাঁপ ধরে। আর বাজারে অক্সিমিটার বিক্রি হয় শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য। অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় শরীরের কোষে টক্সিক মাত্রা বাড়তে থাকে।

“মুখোশ পরা আক্ষরিকভাবে আপনার নিজের ভাইরাসকে সক্রিয় করে তোলে। আপনি আপনার নিজের পুনরায় সক্রিয় করোনা ভাইরাস এক্সপ্রেশন থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।” একই সঙ্গে কার্বন-ডাই-অক্সাইড টক্সিসিটি শরীরের ইমিউনিটিকে আহত করে, তার বৃদ্ধিকে প্রতিহত করে। মুখোশ ব্যববহার কোভিদ-১৯ সম্ভাবনাকে রহিত করার বদলে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।

এখন মুখ ঢেকে যায় মুখোশের বিজ্ঞাপনে। নতুন তত্ব শোনা যাচ্ছে মুখোশ ব্যবহারে মানুষের মরাল বুস্টআপ হয়। আগে মুখোশ ছাড়া রাস্তায় বেরোলে নাকি মনে হতো যে কোনও মুহূর্তে কোভিদ আক্রান্ত হতে পারি।

কিন্তু সবাই মাস্ক পরলে মনে হয় যেন নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে। এই করোনাকালে এর মূল্য অপরিসীম। তবে শোনা যায় লিপস্টিকের দাম কমে গেছে, কারণ ঠোঁট মুখোশে ঢাকা থাকায় মহিলারা লিপস্টিক ব্যবহার ছেড়ে দিয়েছেন। বরং স্কার্ফ এবং মাস্ক মিলিয়ে মার্ফ পড়া শুরু হয়েছে।

বাহারী কাপড়ের মার্ফ এবং মাস্ক বানানোর প্রতিযোগিতা চলছে। সঙ্গে চুল ঢাকা কাপড় এবং নেটের টুপি। মহিলাদের শরীরের প্রায় সবটাই অদৃশ্য। মুসলিম ধর্মগুরুরা আনন্দ করতে পারেন যে, তাঁদের আর মহিলাদের বোরখা আবৃত করে রাখার জন্য গঞ্জনা সইতে হবে না। কোভিদ-১৯ এই একটা জায়গায় দৃশ্যতঃ সর্বধর্মসমন্বয় ঘটিয়ে দিল।

যখন আপনি অসুস্থ নন এবং সামাজিক দূরত্ব অনুশীলন করছেন তখন মুখোশটি, এটি স্বাস্থ্যবিধি বা জনস্বাস্থ্যের সংরক্ষণের অংশ নয়, তবে এটি পাগলামি।

এমনকি দন্ত চিকিৎসকরা সবলতে শুরু করেছেন যে টানা মুখোশ পড়ায় ক্ষয়িষ্ণু দাঁত, পেরিওডোনাল রোগ বা গুরুতরভাবে দুর্গন্ধযুক্ত শ্বাসের মতো রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটছে। প্রদাহ, ক্যাভিটি এবং মাড়ির রোগ আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। কারণ মুখোশ পরা অবস্থায় লোকেরা তাদের নাকের পরিবর্তে মুখের মাধ্যমে শ্বাস নিতে থাকে।

মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের কারণে মুখগহ্বর শুকনো হয়ে স্যালিভা কমিয়ে দেয়, যা সাধারণতঃ ব্যাক্টিরিয়ার সাথে লড়াই করে দাঁত এবং মাড়ি সুস্থ রাখে।

বিশেষ অজ্ঞের কোভিদ জিজ্ঞাসা পর্ব-১: ভ্যাকসিন?

এরই চূড়ান্ত পর্যায়ে স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি। মুখ এবং নাকে বাধা তৈরি করতে হয় না। আপনাকে একটি মুখোশ পরতে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলার লক্ষ্যটি আসলে, ভ্যাকসিন তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ভয়কে দীর্ঘায়িত করা।

মুখোশ পরার সিদ্ধান্ত, লকডাউনের সিদ্ধান্ত, সামাজিক দূরত্বের সিদ্ধান্ত কোনওটাই বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে নয়। পরিত্যক্ত মুখোশ এবং গ্লাভস একটি নতুন মাত্রার দূষণ তৈরি করতে শুরু করেছে যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য, বিশেষতঃ প্রাণিকুলের জন্য বিপজ্জনক। অতএব, আমরা সরকারগুলিকে বলি: বন্ধ করুন এই অবৈধ এবং বিপজ্জনক বাধ্যতামূলক মুখোশ পরার ব্যবস্থা।

Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

ইস্টবেঙ্গল কে হারানোর বিষয়ে আশাবাদী রয় কৃষ্ণা 

Read Next

সোমবার থেকে মেঘমুক্ত আকাশে পারদ নামবে হু হু করে

Leave a comment

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.