Breaking News

অপুর সংসার শেষ হোল

সৌমিত্র চট্ট্যোপাধ্যায় (১৯৩৫-২০২০)                                                                     

জয়দীপ ঘোষ – দিল্লী 

পুত্র সৌগতর বন্ধু হওয়ার সূত্রে লেক রোডের বাড়িতে গিয়েছি বহুবার টকটকে গায়ের রঙ এবং তার উপর লাল পাঞ্জাবি তে ওনাকে অনেকটা দেবপ্রতিম লাগত , উনি খুব সহজ মানুষ ছিলেন অল্প হাসি ঠাট্টা ” ভাল করে খেও ” এর মধ্যেই যদিও নিবদ্ধ ছিল আমাদের আলাপচারিতা এবং ছিল তার অপু সুলভ অমায়িক হাসি আর মাঝে মাঝে উচ্চকিত দমকা হাসি । আমরা মেসোমশাই বলতাম । 

এরপর বহুদিন কেটে গ্যাছে আমি শহরের বাইরে, ফিরে এলাম ৮৫ সালে পুনা ফিল্ম ইন্সটিটিউট থেকে পাশ করে আমি তখন কলকাতায় সাউন্ড রেকর্ডিঙ  এর কাজ করি। তখন বাংলা সিরিয়ালের শৈশব। রাজা সেন এর কোন একটি সিরিয়ালে কাজ করতে গিয়ে ওনার সাথে দেখা । লাঞ্চ ব্রেক গ্রামে সুট্যিং দেখলাম মাটির বাড়ির দাওয়ায় বসে উনি ঘামছেন জেনারেটর বন্ধ, উনি কিন্তু কাউকে কিছু বলছেন না  ।  আমি রাজা কে বললাম দেখো বয়স্ক মানুষ ।  রাজা তৎক্ষনাত বললেন জেনারেটর টা চালিয়ে দিতে ।’

  

আমি সেটিং এর একজন কে  নিয়ে অনার কাছাকাছি একটা পেডেস্তাল ফ্যান লাগিয়ে দিলাম হাওয়া টা গায়ে লাগতেই ওনার দৃষ্টি আমার দিকে পড়ল ” বাঁচালে বাবা রোস্ট হয়ে যাচ্ছিলাম “।

আমি বললাম মেসোমশাই আমি জয়দীপ ।  কে ?।  বুবুর বন্ধু বহুবার গেছি আপনার বাড়ি ।

“দেখি কাছে আয়” আমি পাশে গিয়ে বসলাম বেশ কিছুক্ষণ দেখলেন , হুম্ অনেক পালটেছিস হাসিটা এক আছে তা এখানে কি ব্যাপার ? আমি বল্লাম পুনা ফিল্ম ইন্সটিটিউট ইত্যাদি মন দিয়ে শুনলেন। তারপর বললেন সিগারেট খাস মাথা নাড়াতে পকেট থেকে নিজের প্যাক বার করে আমায় একটা দিলেন নিজে একটা ধরালেন।

তারপর বেশ কিছুক্ষণ নানা কথা গলফ গ্রিন এ নিজের বাড়ি করেছেন লেক প্লেসে আর থাকেন না , বুবুর কথা জিজ্ঞেস করাতে একটু অন্যমনস্ক হয়ে বললেন কোন কিছুই ঠিক নেই আবার সবকিছুই ঠিক আছে ।   

               

সৌমিত্র চ্যাটার্জী বা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়: জন্ম ১৯ জানুয়ারী ১৯৩৫ ) একটি ভারতীয় চলচ্চিত্র এবং মঞ্চ অভিনেতা এবং কবি। অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের সাথে তাঁর সহযোগিতার জন্য তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত, যার সাথে তিনি চৌদ্দটি  ছবিতে কাজ করেছিলেন, এবং বাংলা চলচ্চিত্রের পর্দার ম্যাটিনি আইডল উত্তম কুমারের সাথে তাঁর নিরন্তর তুলনা, ১৯৬০  এবং ১৯৭০ এর দশকের সমসাময়িক শীর্ষস্থানীয় মানুষ।

সৌমিত্র চ্যাটার্জি হলেন প্রথম ভারতীয় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব যিনি কমান্ডার দে ’অর্ড্রে দে আর্টস এত দে লেটার্স , ফ্রান্সের শিল্পীদের পক্ষে সর্বোচ্চ পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। তিনি সিনেমার জন্য ভারতের সর্বোচ্চ পুরস্কার দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারেরও বিজয়ী। ২০১৭ সালে পরিচালক  সত্যজিৎ রায় ফ্রান্সের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরষ্কারে ভূষিত হওয়ার ঠিক ত্রিশ বছর পরে, থেস্পিয়ান  সৌমিত্র চ্যাটার্জি, যুক্তিযুক্ত ভাবে, রায়ের চলচ্চিত্রগুলির সর্বাধিক বিশিষ্ট মুখ ।  

অপু ত্রয়ীর তৃতীয় অংশ, অপুর সংসার ( ১৯৫৯) দিয়ে তিনি অভিযানের  চারুলতা  সহ বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ছবিতে কাজ শুরু করেছিলেন। , অরণ্যের  দিন রাত্রি (১৯৬৯ ); অশনী সংকেত (১৯৭৩ ); ফেলুদা চরিত্রে সোনার কেল্লা (১৯৭৪) এবং ফেলুদা চরিত্রে জয় বাবা ফেলুনাথ (১৯৭৮), ঘরে বাইরে (১৯৮৪) এবং গণশত্রু (১৯৮৯)। এদিকে, তিনি আকাশ কুসুমে মৃণাল সেনের সাথে বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যান্য প্রখ্যাত পরিচালকদের সাথেও অভিনয় করেছিলেন, ক্ষুদিত পাষাণ  তপন সিনহা, ঝিন্দের বন্দী  (১৯৬১), স্বরলিপি তে  অসিত সেনের সাথেও তিনি কাজ করেছেন। , সাত পাকে  বাঁধা  অজয় ​​কর, পরিণীতা , এবং সংসার সীমান্তে  তরুণ মজুমদার এবং গণদেবতা । ২০১৯  সাল পর্যন্ত তিনি তার কেরিয়ারে ২৭০  টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন।

তার অবর্তমানে নিম্নগামী বাংলা ছবির গতি আরও দ্রুতগামী হবে এই আশঙ্কা।  কিন্তু উনি  চিরকাল বেঁচে থাকবেন আলো হয়ে  সিনেমার পর্দায় ।

Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

কেমন যাবে আপনার আজকের দিনটি : দৈনিক রাশিফল

Read Next

চলে গেলেন শেষ অভিনেতা

One Comment

  • বানান ভুলগুলো বাদ দিলে, ভালো স্মৃতিচারণ। আমাদের সময়ের একজন শ্রেষ্ঠ সৃজনশীল বুদ্ধিজীবী ছিলেন। সিনেমা-থিয়েটারের অসামান্য অভিনয় ছাড়াও দক্ষতার সাথে একটি বিদগ্ধ পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন, রসোতীর্ণ কবিতা, নাটক এবং চমৎকার গদ্য লিখেছেন। আর ছবিও এঁকেছেন। এরই পাশাপাশি চলচ্চিত্রের শিল্পী-কলাকুশলীদের নিয়ে সংগঠন করেছেন, সমাজের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করছেন।

Leave a comment

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.
%d bloggers like this: