Breaking News

টিটাগড়ে বিজেপি নেতা খুন , ব্যারাকপুর বন্ধ সর্বাত্মক ,রাজ্যপাল বললেন- রাজনৈতিক হিংসা, মৃত্যু বন্ধ করতে হবে।

বীথিন সরকার, উত্তর ২৪ পরগনা : বিজেপি নেতা মনীশ শুক্লার খুনের প্রতিবাদে সোমবার ১২ ঘণ্টা ব্যারাকপুর বনধের ডাক দিয়েছিলো বিজেপি। এদিন সকাল থেকেই ব্যারাকপুর-বারাসাত রোড অবরোধ করেন বিজেপি কর্মীরা। বটতলা এলাকায় অবরোধ শুরু হয়। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন বিজেপি কর্মীরা। দফায় দফায় অবরোধ করা হয় কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে, প্রায় ২ ঘণ্টা পর সেই অবরোধ ওঠে। বনধ সফল করতে এদিন সকাল থেকেই রাস্তায় নামেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।

সকালবেলায় মণীশ শুক্লার বাড়িতে আসেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়, মুকুল রায় ও অর্জুন সিংহ সহ দলের নেতারা। কৈলাস বিজয়বর্গীয় খুনের ঘটনায় সিবিআই বা অন্য কোন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং অভিযোগ করেন, বিজেপি নেতা খুনে জড়িত পুলিশ, তাদের অস্ত্র নিয়েই খুন। তৃণমূল বিধায়কের বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল আততায়ীরা। গতকাল হাওড়ায় দলীয় কর্মসূচি সেরে ফেরার সময় মণীশ শুক্লাকে ডানলপ থেকে অনুসরণ করা হয়েছিল বলে দাবি করেন অর্জুন সিং।

এদিকে জানা গিয়েছে, মণীশ শুক্লার নিরাপত্তা রক্ষীরা ছুটিতে ছিলেন, সে ব্যাপারে খবর নিয়ে আটঘাট বেঁধে দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় বলে অনুমান। পাশাপাশি এদিন সকালে ঘটনাস্থলের সামনে একটি ওষুধের দোকানের সিসিটিভি উধাও হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চক্রান্তের দাবি তুলেছেন।

জানা গিয়েছে ওই ওষুধের দোকানের বাইরে দুটি সিসিটিভি লাগানো ছিল। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত দুটি সিসিটিভি দেখা গিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু সোমবার সকাল থেকেই লক্ষ্য করা যায় ওষুধের দোকানের বাইরে লাগানো দুটি সিসিটিভি মধ্যে একটি উধাও।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ভাড়াটে খুনিদের ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। আততায়ীদের চিহ্নিত করতে বিটি রোডের ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, দুষ্কৃতীরা হামলার পর খড়দার দিকে চম্পট দেয়।

8 hours ago The Logical Indian BJP Leader Manish Shukla Shot Dead In West Bengal

পুলিশ সূত্রে খবর, ৪ জন দুষ্কৃতী ২টি মোটর বাইকে এসে গুলি চালিয়ে চম্পট দেয়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।এই ঘটনায় বিজেপির তরফ থেকে অভিযোগের আঙুল উঠেছে তৃণমূলের দিকে, যদিও তৃণমূলের দাবি, এই খুন বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গেও বিহার-উত্তর প্রদেশের মত মাফিয়া রাজ শুরু হয়েছে। একজন আইনজীবী ও প্রাক্তন কাউন্সিলরকে প্রকাশ্যে স্টেনগান দিয়ে ব্রাশ ফায়ারিং করা হল। ১২টা গুলি লেগেছে, মাথাতেই ৪টে।’ পুলিশই এ সব করাচ্ছে, পুলিশকে ওখানে সুপারি কিলার হিসেবে পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন দিলীপবাবু।

সোমবার নিহত মনিশ শুক্লার মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয় এনআরএস হাসপাতালে।সকাল থেকেই এন আর এস হাসপাতাল মর্গে চারপাশে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল । এনআরএস মর্গের সামনে প্রত্যেকটি অংশে ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেওয়া হয় ।

এদিন এনআরএসে হাসপাতালে অরবিন্দ মেনন, কৈলাস বিজয়বর্গীয়, অর্জুন সিং এবং সব্যসাচী দত্ত বিজেপি অনুগামীদের নিয়ে ঢুকতে গেলে আটকে দেওয়া হয়। এরপর পুলিশের সঙ্গে বচসা শুরু হয় বিজেপি নেতা কর্মীদের। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এন আর এস হাসপাতাল চত্বর।ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় পুলিশ এবং বিজেপি কর্মী নেতাদের মধ্যে। পুলিশ দাবি করে কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে একসঙ্গে এই বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।

 

তর্কে জড়িয়ে পড়েন বিজেপি নেতা এবং কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা। পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাইকিং করতেও দেখা যায়।

অবশেষে কলকাতা পুলিশ বিজেপি নেতাদের জেদের কাছে হার মানে।তবে শুধুমাত্র নেতাদেরই প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে হাসপাতাল চত্বরে।বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় তিনিও কিছু সময়ের ব্যবধানে এসে পৌঁছান এনআরএস হাসপাতালে।

ব্যারাকপুরের বিজেপি প্রাক্তন কাউন্সিলর মণীশ শুক্লার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর হাসপাতাল থেকে শোক মিছিল করে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় টিটাগড়ে তার বাড়িতে।

সামাজিক দূরত্ব বৃদ্ধি মাথায় তুলে এদিন নেতা-কর্মী-সমর্থকরা ভারী সংখ্যায় উপস্থিত হওয়ায় পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা অরবিন্দ মেনন দাবি করেন, ‘এনআরএস হাসপাতালের মর্গে থেকেই রাতের অন্ধকারে মৃতদেহ গায়েব করে দেওয়া হবে।’ পরবর্তী সময়ে কলকাতা পুলিশের শীর্ষ নেতৃত্ব মণীশ শুক্লার পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিজেপি নেতাদের মর্গের সামনে পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।

এদিকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার ইচ্ছাপ্রকাশ করে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব ও ডিজিপিকে বেলা ১০টা নাগাদ রাজভবনে ডেকে পাঠান রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। যদিও রাজ্যপালের ডাকে সাড়া না দিয়ে এদিন রাজভবনে জাননি স্বরাষ্ট্রসচিব। তার পরিবর্তে রাজভবনে আসেন শুধুমাত্র মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

8 hours ago The Logical Indian BJP Leader Manish Shukla Shot Dead In West Bengal
political violence, death must be stopped.

 

পাশাপাশি রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকড় টুইটে অভিযোগ করেছেন, গতকাল রাত ১০টা ৪৭ মিনিটে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেন, জরুরি ভিত্তিতে কথা বলার জন্য। তখনও মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ফোন ধরেন নি।মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে এদিন রাজ্যপাল টুইট করে জানান,উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যসচিবকে জানিয়েছি, আশা করব মুখ্যমন্ত্রী এবিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন। রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা, মৃত্যু বন্ধ করতে হবে।

Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

‘উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলো ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে বিশেষ ভুমিকা পালন করছে : দোরাইস্বামী

Read Next

ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কে এ অঞ্চলের শান্তি, নিরাপত্তায় বিপুল সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে : হাসিনা

Leave a comment

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.