Breaking News

মোদি-হাসিনার ভার্চুয়াল বৈঠকে স্বাক্ষর হবে ৪ চুক্তি

4 agreements will be signed in the Modi-Hasina virtual meeting

হাতি সংরক্ষণে ভারত-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগ

ইস্টার্ন টাইমস বিশেষ সংবাদদাতা , ঢাকা, ১৫ ডিসেম্বর: আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠকে চারটি সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডার্সট্যান্ডিং) স্বাক্ষরিত হবে বলে জানিয়েছে ঢাকার বিদেশমন্ত্রক।

এ মউ গুলো হল- হাতি সংরক্ষণ, বরিশালে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প ও জ্বালানি সহযোগিতা (হাইড্রোকার্বন)। দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের আগে দুই দেশের স্ব স্ব মন্ত্রকের সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী চুক্তিগুলো সই করবেন।

এ বিষয়ে ঢাকার বিদেশ মন্ত্রকের এক আধিকারিক বলেন, দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠক বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হবে। বৈঠকের শুরুতে ভারতের পোস্টাল বিভাগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর ওপর স্ট্যাম্প উদ্বোধন করা হবে। বঙ্গবন্ধু-বাপু (মহাত্মা গান্ধী) ডিজিটাল মিউজিয়ামের ওপর একটি প্রমো প্রদর্শন করা হবে। এছাড়া ৫৫ বছর পরে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেললাইন সংযোগ একটি ট্রেন ফ্ল্যাগ অফের মাধ্যমে পুনরায় চালু হবে।

এবারের বৈঠকে নতুন কী আছে জানতে চাইলে ওই আধিকারিক বলেন, ‘প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

এর মধ্যে রয়েছে ইনফরমেশন টেকনোলজি, স্পেস, আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সসহ অন্যান্য প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিষয়।’

বিদেশ মন্ত্রকের আরেক আধিকারিক জানান, প্রতিবারের মতো এবারও বৈঠকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেমন-শান্তিপূর্ণ সীমান্তসহ অন্যান্য নিরাপত্তা সহযোগিতা, বাণিজ্য সহযোগিতা, জল সহযোগিতা, কানেকটিভিটি, কোভিড-১৯ সহযোগিতা, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি বিদেশে যৌথভাবে উদযাপনসহ অন্যান্য বিষয় তোলা হবে।

দুই প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি হবে হাতি সংরক্ষণ। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে হাতির বাসস্থান টেকসই পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হবে। সীমান্তবর্তী এলাকায় আন্তঃদেশীয় হাতির জরুরি ব্যবস্থাপনার জন্য বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত করে এটা ম্যানেজ করা যাবে। উভয় দেশ যৌথভাবে গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ কাজ পরিচালনা করবে।

অসমের কাজিরঙ্গা থেকে চার বছর আগে বন্যার জলে ভেসে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে গিয়েছিল একটি হাতি ‘বঙ্গবাহাদুর’।

দুই দেশের সমন্নয়হীনতার কারণে সেই হাতিটিকে বাঁচানো যায়নি। ওই ঘটনার পর থেকে আন্তঃদেশীয় হাতি যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করতে দুই দেশের মধ্য ‘প্রটোকল অন টান্স-বাউন্ডারি এলিফ্যান্ট কনজারভেশন বিটুইন রিপাবলিক অব বাংলাদেশ অ্যান্ড রিপাবলিক অব ইন্ডিয়া’ নামের একটি সমঝোতা চুক্তির অনুমোদন দেয় বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা।

বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় অসম ও মেঘালয় থেকে আসা ২৩টি হাতি মারা গেছে এবং দু’টি আহত হয়। হাতির আক্রমণে ৩৬ জন মানুষ মারা গেছে, ২০ জন আহত হয়েছেন।

এছাড়া এক হাজার ১১৬টি পরিবার ও ২৩২টি বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রটোকলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা যদি হয় তবে সুবিধা হবে যে, আন্তঃদেশীয় হাতি যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ সম্ভব হবে।

উভয় দেশ নিজ নিজ বন্যপ্রাণী বিষয়ক আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারবে। হাতি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় গৃহীত কার্যক্রম ও উদ্যোগ সম্পর্কিত তথ্য উভয় দেশের মধ্যে আদান-প্রদান করা যাবে। হাতি সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও বন্যপ্রাণী আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করে আধিকারিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা যাবে।

Vinkmag ad

Eastern Times

Read Previous

ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করতে দেব না: শেখ হাসিনা

Read Next

গোল এল মাঘোমার তাও হার হল লাল হলুদ ব্রিগেডের

Leave a comment

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

easterntimes will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.